পুজোর আগে সোশাল মিডিয়ায় ‘ড্রিমবয়’ বা ‘ড্রিমগার্ল’ ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেখলেই সতর্ক হন। এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভুয়া প্রোফাইল এবং একের পর এক আগাম চার্জের আড়ালে টাকা হাতানোর ছক কষছে সাইবার জালিয়াতরা বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
Puja companion rental scam: Police warn social media users against fake companion-booking offers using AI-generated profiles and advance payment demands.

শারদোৎসব মানেই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সময়। কিন্তু অনেকের কাছেই এই উৎসবের দিনগুলি নিঃসঙ্গতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই আবেগকেই এবার ফাঁদের হাতিয়ার করছে সাইবার জালিয়াতরা। পুজোয় প্যান্ডেল হপিং, পার্টি, অনুষ্ঠান কিংবা কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যাওয়ার জন্য বন্ধু বা বান্ধবী ‘ভাড়া’ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে, পছন্দমতো সঙ্গী বা সঙ্গিনী বুক করলেই উৎসবের সময় আর একা কাটাতে হবে না। পুলিশের সতর্কবার্তা, এমন প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া তো দূরের কথা, কোনও লিঙ্ক বা ‘বুক নাউ’ আইকনেও ক্লিক করা উচিত নয়। কারণ সুন্দর ছবি ও আকর্ষণীয় কথার আড়ালে থাকতে পারে পরিকল্পিত আর্থিক প্রতারণা।
নিঃসঙ্গতাই সাইবার প্রতারকদের ‘মূলধন’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণার নেপথ্যে মানুষের নিঃসঙ্গতা, আবেগ এবং উৎসবের সময় একজন সঙ্গীর চাহিদাকেই মূলধন করা হচ্ছে। সাইবার জালিয়াতরা জানে, পুজোর মতো সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, রাতভর প্যান্ডেল দেখা বা কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু পাশে পরিচিত কেউ না থাকলে কেউ কেউ সোশাল মিডিয়ায় পাওয়া অপরিচিত পরিষেবার দিকে আকৃষ্ট হতে পারেন। প্রতারকেরা ঠিক সেই মানসিক অবস্থাটিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
সোশাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে পরিষেবাটি আধুনিক, ব্যক্তিগত এবং সম্পূর্ণ গোপনীয় বলে মনে হয়। কোথাও ‘ড্রিমবয়’, কোথাও ‘ড্রিমগার্ল’—এই ধরনের নাম ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকের কৌতূহল বাড়ানো হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে সুদর্শন যুবক বা সুন্দরী যুবতীর ছবি। পুরো উপস্থাপনাটি এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে প্রথম দেখায় সেটিকে কোনও পেশাদার ও বিশ্বাসযোগ্য পরিষেবার বিজ্ঞাপন বলেই মনে হতে পারে।
ছবির মানুষটি আদৌ বাস্তব নাও হতে পারেন
এই প্রতারণার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল ছবি। বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা আকর্ষণীয় তরুণ বা তরুণীর ছবিটি দেখে অনেকেই ধরে নিতে পারেন, ওই ব্যক্তিই হয়তো বুকিংয়ের পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু পুলিশের দাবি, ছবিতে দেখা ওই যুবক বা যুবতীর বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নাও থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এমন বিশ্বাসযোগ্য মুখ তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ চোখে ভুয়া বলে বোঝা কঠিন।
শুধু একটি ছবি নয়, সম্ভাব্য গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জনের জন্য পরে একাধিক ছবিও পাঠানো হতে পারে। প্রতিটি ছবির সঙ্গে দেওয়া হতে পারে আলাদা নাম, বয়স, পছন্দ বা সংক্ষিপ্ত পরিচয়। ফলে ব্যবহারকারীর সামনে যেন সত্যিই কয়েকজন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে—এমন একটি অনুভূতি তৈরি হয়। বাস্তবে ছবিগুলি এআই দিয়ে তৈরি এবং তাদের ঘিরে বানানো প্রোফাইলগুলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক হতে পারে। এই সাজানো বিকল্পগুলিই ভুয়া পরিষেবাটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
কীভাবে সাজানো হচ্ছে ‘বন্ধু ভাড়া’র বিজ্ঞাপন
ভুয়া বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, পছন্দের সঙ্গী বা সঙ্গিনী পার্টি কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে সঙ্গে যেতে প্রস্তুত। কোনও ট্রিপে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নাকি তাঁকে বুক করা যাবে। পুজোর সময় রাতভর প্যান্ডেল হপিং থেকে শুরু করে শহরের বাইরে অল্প দূরত্বের সফর—সব ক্ষেত্রেই সঙ্গ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যে কোনও সময়ে পরিষেবা পাওয়া যাবে এবং গ্রাহকের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এই প্রতিশ্রুতিগুলির উদ্দেশ্য একটাই—ব্যবহারকারীর দ্বিধা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা। বিজ্ঞাপনের নীচে থাকা ‘বুক নাউ’ বা অনুরূপ আইকনটিও সেই তাড়াহুড়োর পরিবেশ তৈরি করে। মনে করানো হয়, পছন্দের সঙ্গী বা সময়ের স্লটটি হাতছাড়া হওয়ার আগে এখনই বুকিং করতে হবে। কিন্তু পুলিশের পরামর্শ, এই ধরনের প্রস্তাব যতই আকর্ষণীয় মনে হোক, আবেগের বশে কোনও পদক্ষেপ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রথমে রেজিস্ট্রেশন, তারপর একের পর এক টাকা
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বিজ্ঞাপনে সাড়া দিলে বা ‘বুক নাউ’ আইকনে ক্লিক করলে প্রতারণার পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। প্রথমে তাঁকে বলা হয়, পরিষেবায় নাম নথিভুক্ত করতে আগাম টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বা সাক্ষাৎ হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রেশন ফি চাওয়া হয়। আগ্রহী ব্যক্তি সেই টাকা পাঠালে তাঁকে আরও উৎসাহিত করা হয় এবং জানানো হয়, তাঁর বুকিং প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
এরপর কয়েকজন তরুণ বা তরুণীর ছবি এবং পরিচয় পাঠিয়ে তাঁদের মধ্যে একজনকে পছন্দ করতে বলা হতে পারে। এই পর্যায়ে এসে অনেকেরই মনে হয়, রেজিস্ট্রেশন সফল হয়েছে এবং পরিষেবাটি সত্যি। কারণ প্রতারকেরা শুধু টাকা চাইছে না; তারা ছবি দেখাচ্ছে, বিকল্প দিচ্ছে এবং বুকিংয়ের একটি সাজানো প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। অথচ এই গোটা ব্যবস্থাই ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জনের জন্য তৈরি একটি অভিনয় হতে পারে।
একজনকে পছন্দ করার পর শুরু হয় আরও টাকা চাওয়ার পালা। কখনও বুকিং নিশ্চিত করার জন্য অগ্রিম অর্থ, কখনও ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’, আবার কখনও পরিচয় যাচাইয়ের নামে ‘ভেরিফিকেশন চার্জ’ দিতে বলা হয়। প্রতিটি দাবির সঙ্গে এমন ব্যাখ্যা জুড়ে দেওয়া হতে পারে, যাতে টাকা দেওয়াটা নিয়মমাফিক ও জরুরি বলে মনে হয়। একবার ছোট অঙ্কের অর্থ দিয়ে ফেললে অনেকেই আগের টাকা বাঁচাতে বা বুকিং সম্পূর্ণ করতে পরের অঙ্কটিও পাঠিয়ে দেন। প্রতারকেরা এই মানসিকতাকেই কাজে লাগায়।
টাকা পাঠালেই বন্ধ হতে পারে সমস্ত যোগাযোগ
পুলিশের দাবি, চাওয়া সমস্ত টাকা পাঠানোর পরে প্রতারকেরা আর কোনও পরিষেবা দেয় না। বরং যে ব্যক্তি বা মহিলা টাকা দিয়েছেন, তাঁকে ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া অ্যাকাউন্ট, যোগাযোগের নম্বর বা মেসেজিং চ্যানেল থেকেও আর কোনও উত্তর পাওয়া যায় না। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত সংযোগ। ফলে বুকিং তো হয়ই না, ফেরত পাওয়া যায় না রেজিস্ট্রেশন, অগ্রিম টাকা, সিকিউরিটি ডিপোজিট কিংবা ভেরিফিকেশন চার্জের নামে দেওয়া অর্থও।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই ধরনের অভিযোগ ওঠার খবর রাজ্যের গোয়েন্দাদের কাছেও পৌঁছেছে বলে পুলিশ সূত্রের বক্তব্য। তাঁদের আশঙ্কা, পুজোর আগে একই ‘মোডাস অপারেন্ডি’ ব্যবহার করে কলকাতা ও রাজ্যের বাসিন্দাদের নিশানা করতে পারে সাইবার জালিয়াতরা। উৎসবের সময়ে সোশাল মিডিয়ায় মানুষের সক্রিয়তা বাড়ে, নতুন পরিকল্পনা তৈরি হয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। প্রতারকেরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপন ছড়াতে পারে।
আগেও ভুয়া ডেটিং অ্যাপে একই কৌশল
‘সঙ্গী ভাড়া’র নামে এই প্রতারণার ধরন একেবারে নতুন কৌশল বলে মনে হলেও এর সঙ্গে ভুয়া ডেটিং অ্যাপের জালিয়াতির মিল রয়েছে। পুলিশের মতে, এর আগেও ভুয়া ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে টাকা হাতানো হয়েছে। আকর্ষণীয় ছবি, কাল্পনিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি এবং আগাম টাকা—এই কয়েকটি উপাদান ব্যবহার করেই প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়। শুধু উপলক্ষ ও বিজ্ঞাপনের ভাষা বদলে এখন পুজোর আবহকে সামনে আনা হচ্ছে।
এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা সাধারণত ভুক্তভোগীর আবেগকে লক্ষ্য করে। কারও একাকিত্ব, কারও নতুন বন্ধুত্বের আকাঙ্ক্ষা, আবার কারও উৎসবের কয়েকটি দিন আনন্দে কাটানোর ইচ্ছা—সবই তাদের কাছে সুযোগ। ফলে বিষয়টিকে কেবল একটি সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখলে চলবে না; এখানে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অনুভূতিকে পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি যত বেশি ব্যক্তিগত এবং সহানুভূতিশীল মনে হবে, ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি তত বাড়তে পারে।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হবেন
সোশাল মিডিয়ায় অপরিচিত কোনও পেজ বা প্রোফাইল থেকে বন্ধু কিংবা বান্ধবী ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব এলে প্রথমেই সন্দেহ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে অতিরিক্ত সুন্দর বা নিখুঁত ছবি, সব পরিস্থিতিতে সঙ্গ দেওয়ার আশ্বাস, সম্পূর্ণ গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি এবং দ্রুত বুকিংয়ের চাপ থাকলে সতর্ক হতে হবে। এগুলির কোনও একটিই প্রতারণার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হল দেখা বা পরিষেবা দেওয়ার আগেই টাকা চাওয়া। রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে শুরু করে পরে বুকিং চার্জ, সিকিউরিটি ডিপোজিট এবং ভেরিফিকেশন চার্জ—একটির পর একটি নতুন অজুহাতে টাকা চাওয়া হলে আর এগোনো উচিত নয়। ছবির সঙ্গে নাম ও বিবরণ পাঠানো হয়েছে বলেই প্রোফাইলটি সত্যি, এমন ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক। এআই দিয়ে তৈরি ছবির যুগে নিখুঁত দেখতে একটি মুখ বাস্তব মানুষের পরিচয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।
অপরিচিত বিজ্ঞাপনের লিঙ্কে ক্লিক করা, বুকিং আইকনে চাপ দেওয়া কিংবা কোনও ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকা দরকার। প্রতারকেরা প্রথমে খুব সামান্য তথ্য বা ছোট অঙ্কের টাকা চাইতে পারে। কিন্তু একবার যোগাযোগ শুরু হলে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো এবং নতুন কারণ দেখিয়ে আরও অর্থ দাবি করার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রথম ধাপেই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

আবেগ নয়, যাচাইকে গুরুত্ব দিন
পুজোর আনন্দে সঙ্গীর প্রয়োজন অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থ হাতানোর চেষ্টা করছে কি না, তা বোঝার জন্য আবেগের বদলে সতর্ক বিচার প্রয়োজন। কোনও বিজ্ঞাপন আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে বলে মনে হলেও সেটি বহু মানুষের উদ্দেশে ছড়ানো একই ফাঁদ হতে পারে। ‘শুধু আপনার জন্য’, ‘এখনই বুক করুন’ বা ‘সম্পূর্ণ গোপনীয়’—এই ধরনের বার্তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয় এবং সন্দেহ প্রকাশের সুযোগও কমায়।
পুলিশ তাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উৎসবের মুখে সোশাল মিডিয়ায় বন্ধু বা বান্ধবী ভাড়া দেওয়ার কোনও প্রস্তাব এলে তাতে রাজি হওয়া উচিত নয়। এমন বিজ্ঞাপন ফিরিয়ে দিতে হবে এবং কোনও টাকা পাঠানো যাবে না। ভুল করে যোগাযোগ করে ফেললেও নতুন কোনও চার্জ মেটানোর জন্য অর্থ পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি নতুন পেমেন্টের পর আরও একটি দাবির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
পুজোর আগে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
কলকাতা ও রাজ্যের মানুষ যাতে পুজোর আগে এই সাইবার ফাঁদে না পড়েন, সে জন্য সোশাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তাঁদেরও এই প্রতারণার ধরন সম্পর্কে জানানো জরুরি। একটি সতর্ক আলোচনা হয়তো কাউকে ভুয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা বা আগাম টাকা পাঠানো থেকে বিরত রাখতে পারে।
উৎসবের সময় আনন্দের পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনলাইন প্রলোভনের শিকার হওয়া যেন না হয়, সেটাই এখন মূল বার্তা। ছবির চাকচিক্য, পছন্দের সঙ্গী বেছে নেওয়ার অভিনব সুযোগ কিংবা গোপনীয়তার আশ্বাস—কোনওটাই পরিষেবাটি সত্যি হওয়ার প্রমাণ নয়। বরং আগাম টাকা, ভুয়া প্রোফাইল এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার এই পরিচিত ছক মাথায় রাখলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব। পুজোয় সঙ্গী ‘ভাড়া’ নেওয়ার প্রস্তাব তাই যতই আকর্ষণীয় দেখাক, নিরাপদ থাকার সহজ নিয়ম একটিই—সাড়া দেবেন না, টাকা পাঠাবেন না এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব থেকে দূরে থাকুন।
আরও পড়ুন: স্কিনকেয়ারে কি আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছি?