বিয়ের রেজিস্ট্রি না থাকলে কি বিয়ে অবৈধ? বহু বছর পর নথিভুক্ত করা যাবে? জানুন আইনের নিয়ম

Spread the love

সামাজিক রীতি মেনে বিয়ে হলেও ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকলে কী হবে? সম্পত্তির অধিকার, পেনশন, বিমা থেকে বিবাহবিচ্ছেদ—কোন ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন, কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা?

Marriage Registration in India: আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছে। সামাজিক ও ধর্মীয় সমস্ত রীতিনীতি পালন করেছেন। কিন্তু কোনও কারণে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করানো হয়নি। কয়েক বছর পরে হঠাৎ প্রশ্ন উঠল, সরকারি ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকলে সেই বিয়ে কি আইনত বৈধ?

অনেক দম্পতির মনেই এই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, পেনশন, জীবনবিমা কিংবা সরকারি নথিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রমাণ করার প্রয়োজন হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের বৈধতা এবং বিয়ের সরকারি নথিভুক্তি এক বিষয় নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হওয়া কোনও বিয়ে শুধু রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।

তবে তার অর্থ এই নয় যে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের কোনও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই নথিই স্বামী-স্ত্রীর আইনি অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ভারতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?

ভারতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একাধিক আইনি বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্ম, প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন এবং রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নথিভুক্তির প্রক্রিয়া ও বাধ্যবাধকতা আলাদা হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতরাজ কৌশলের বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ৮ নম্বর ধারায় বিয়ে নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে, বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি বিবাহ সম্পন্ন করা এবং নথিভুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ, সব ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আইন বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ মৌর্যের মতে, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের আইনি এবং আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।

তাই কোনও দম্পতি সামাজিক রীতি মেনে বিয়ে করলেও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়মগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

রেজিস্ট্রি না করলে কি বিয়ে অবৈধ হয়ে যায়?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর হল—না, শুধু রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে কোনও আইনত বৈধ বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।

আইনজীবী অমিতরাজ কৌশল জানিয়েছেন, হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ৮(৫) ধারায় এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে।

এই বিধান অনুযায়ী, বিয়ে নথিভুক্ত না হওয়ার কারণে অন্যথায় বৈধ কোনও হিন্দু বিবাহের বৈধতা নষ্ট হয় না।

ধরুন, একটি দম্পতি প্রযোজ্য আইনের সমস্ত শর্ত মেনে এবং প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

কিন্তু বিয়ের পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন করাননি।

সে ক্ষেত্রে শুধু ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকার জন্য তাঁদের বিয়েকে অবৈধ বলে গণ্য করা যাবে না।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে।

শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা, অতিথিদের উপস্থিতি কিংবা বিয়ের ছবি থাকলেই যে প্রতিটি পরিস্থিতিতে বিয়ে আইনত বৈধ হবে, এমন নয়।

সংশ্লিষ্ট বিবাহ আইনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত ধর্মীয় আচারও যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি।

অর্থাৎ, বিয়ের আইনি বৈধতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইন ও তার শর্ত পূরণের উপর।

বিয়ের ১০ বা ২০ বছর পরেও কি রেজিস্ট্রেশন সম্ভব?

Traditional Indian wedding with legal marriage certificate and justice symbols.

বিয়ের অনেক বছর পরে রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে আর বিয়ে নথিভুক্ত করা সম্ভব নয়।

কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে পুরনো বিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা যেতে পারে।

ধরুন, কোনও দম্পতির বিয়ে হয়েছে ১০ বছর আগে। আবার কারও বিয়ের বয়স ২০ বছর বা তারও বেশি।

বিয়ের সময় তাঁরা কোনও কারণে রেজিস্ট্রেশন করেননি। এখন পারিবারিক বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে ম্যারেজ সার্টিফিকেট দরকার হচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম মেনে আবেদন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে বিয়ের প্রমাণ, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

কোন নথি প্রয়োজন হবে বা কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের উপর নির্ভর করবে।

আইনজীবী অমিতরাজ কৌশল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়েছেন।

বহু বছর পরে রেজিস্ট্রেশন করালেই অতীতে আইনত অবৈধ কোনও বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না।

অর্থাৎ, দেরিতে নথিভুক্তি করা এবং বিয়ের মৌলিক আইনি শর্ত পূরণ করা দুটি আলাদা বিষয়।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিয়ে বৈধ হতে পারে। কিন্তু সরকারি নথির অভাব ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যারেজ সার্টিফিকেট স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রমাণ।

বিশেষ করে যখন কোনও সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা আদালতের সামনে বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন এই নথি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

১. সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দাবি

স্বামী অথবা স্ত্রীর মৃত্যুর পরে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে দাবিদারের বৈবাহিক সম্পর্ক প্রমাণ করার প্রয়োজন হতে পারে।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট থাকলে সেই সম্পর্কের সরকারি প্রমাণ দেখানো সহজ হয়।

অন্যদিকে সার্টিফিকেট না থাকলে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

২. পেনশন ও চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা

পেনশন অথবা চাকরির সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা দাবি করার ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

সেই সময় ম্যারেজ সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে কাজে আসতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন না থাকলে দাবিদারকে বিকল্প প্রমাণের উপর নির্ভর করতে হতে পারে।

ফলে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩. জীবনবিমা ও আর্থিক দাবি

জীবনবিমা কিংবা মৃত্যুর পরে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সম্পর্কের পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন উঠতে পারে।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট এই ধরনের দাবি যাচাইয়ের সময় সহায়ক হতে পারে।

তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে এই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথিও বিবেচনা করতে পারে।

৪. বিদেশে যাওয়ার ভিসা ও বসবাসের আবেদন

স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বিদেশে বসবাসের আবেদন কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

সেই কারণে ম্যারেজ সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নথিটি না থাকলে আবেদনকারীকে অন্যভাবে সম্পর্ক প্রমাণ করতে হতে পারে।

৫. ব্যাঙ্ক ও সরকারি নথিতে তথ্য সংশোধন

বিয়ের পরে কোনও ব্যক্তির সরকারি বা আর্থিক নথিতে বৈবাহিক তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

এই ধরনের কাজেও ম্যারেজ সার্টিফিকেট ব্যবহার করা যায়।

নথি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন না থাকলে স্বামী বা স্ত্রী কি বিয়ে অস্বীকার করতে পারেন?

বিয়ের পরে দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রেশন হয়নি।

কয়েক বছর পরে কোনও কারণে স্বামী বা স্ত্রী তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেন।

তাহলে কি ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকায় অন্য পক্ষের দাবি খারিজ হয়ে যাবে?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়।

কোনও পক্ষ বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারেন। কিন্তু শুধু রেজিস্ট্রেশন নেই বলেই আদালত ধরে নেবে না যে বিয়ে হয়নি।

আদালত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বিবেচনা করতে পারে।

সে ক্ষেত্রে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি, ভিডিও কিংবা উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালনের প্রমাণও বিবেচিত হতে পারে।

দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করার তথ্যও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

তবে শুধু একসঙ্গে বসবাস করা এবং আইনত বিবাহিত হওয়া একই বিষয় নয়।

আদালত সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রমাণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিয়ের ছবি বা ভিডিও থাকলেই কি যথেষ্ট?

Indian marriage legal rights concept with wedding rings, law books and justice symbols.

বর্তমানে অনেক দম্পতির কাছেই বিয়ের ছবি ও ভিডিও থাকে। ফলে রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও এই ধরনের তথ্য দিয়ে সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে।

প্রদত্ত আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের ছবি কিংবা ভিডিও আদালতের বিবেচনার জন্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হতে পারে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

একইভাবে প্রযোজ্য ধর্মীয় রীতি পালনের প্রমাণ সম্পর্কিত প্রশ্ন বিচার করার সময় বিবেচিত হতে পারে।

তবে শুধু ছবি থাকলেই আদালতে বিয়ের বৈধতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

কারণ, বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব এবং তার আইনি বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।

তাই বিয়ের ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ করা উপকারী হলেও সেগুলিকে সব পরিস্থিতিতে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের সমতুল্য মনে করা উচিত নয়।

বিবাহবিচ্ছেদ বা খোরপোশের মামলায় কী সমস্যা হতে পারে?

বৈবাহিক সম্পর্কে কোনও বিরোধ তৈরি হলে বিয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করার প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট থাকলে বৈবাহিক সম্পর্কের সরকারি প্রমাণ উপস্থাপন করা সহজ হয়।

কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অন্যান্য প্রমাণের উপর নির্ভর করতে হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে বিয়ের অনুষ্ঠান, সাক্ষীদের বক্তব্য, ধর্মীয় আচার এবং একসঙ্গে বসবাসের তথ্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

তবে কোন প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে এবং তার গুরুত্ব কতটা, তা সংশ্লিষ্ট মামলার পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের উপর নির্ভর করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নথির অভাবে কোনও সম্পর্ক প্রমাণ করার প্রক্রিয়া অতিরিক্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর কেন বাড়তে পারে জটিলতা?

বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব অনেক সময় বোঝা যায় কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলে।

ধরুন, দীর্ঘদিন বিবাহিত জীবন কাটানোর পরে স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

এরপর সম্পত্তি, পেনশন অথবা বিমার সুবিধা দাবি করার প্রয়োজন হল।

সেই সময় আবেদনকারীকে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের বৈবাহিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে হতে পারে।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট থাকলে এই ধরনের প্রক্রিয়ায় সরকারি নথি হিসেবে তা ব্যবহার করা যায়।

কিন্তু সার্টিফিকেট না থাকলে অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ সংগ্রহ, যাচাই ও গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সময় এবং অর্থ ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বিয়ের নথিভুক্তিকে ভবিষ্যতের আইনি ও আর্থিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।

সব জায়গায় কি ম্যারেজ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

ম্যারেজ সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ বলেই প্রত্যেক প্রশাসনিক, আর্থিক কিংবা আইনি ক্ষেত্রে এটি একমাত্র গ্রহণযোগ্য নথি, এমন নয়।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণও বিবেচনা করতে পারে।

তবে বিকল্প প্রমাণ গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে নির্দিষ্ট কাজের নিয়ম এবং পরিস্থিতির উপর।

তাই ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকলেও কোনও দাবি করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই দাবি সহজে প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই কারণেই আগেভাগে সরকারি নথি তৈরি রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করানো কেন বুদ্ধিমানের কাজ?

আইন বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ মৌর্যের মতে, বিয়ের রেজিস্ট্রেশন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একটি সরকারি নথি তৈরি করে।

এই নথি উভয়ের আইনি এবং আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সামাজিক স্বীকৃতি কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু ভবিষ্যতে প্রশাসনিক প্রয়োজন বা আইনি বিরোধ তৈরি হলে সরকারি প্রমাণের গুরুত্ব বেড়ে যায়।

সেই কারণে সামাজিক বা ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হলেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা নথিভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যাঁদের বহু বছর আগে বিয়ে হয়েছে, অথচ এখনও রেজিস্ট্রেশন হয়নি, তাঁরাও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম সম্পর্কে জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারেন।

তবে সব ক্ষেত্রেই বিয়ের মৌলিক বৈধতার শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি।

শেষ কথা: রেজিস্ট্রেশন নেই মানেই বিয়ে অবৈধ নয়

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিয়ের আইনগত বৈধতা এবং সেই বিয়ের সরকারি প্রমাণ দুটি পৃথক বিষয়।

প্রযোজ্য আইনের সমস্ত শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হওয়া কোনও বৈধ বিয়ে শুধু রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।

অন্যদিকে, ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকলে ভবিষ্যতে সম্পত্তি, পেনশন, বিমা, বিদেশে বসবাস কিংবা বৈবাহিক বিরোধের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

আবার বহু বছর পরে রেজিস্ট্রেশন করালেও অতীতে আইনত অবৈধ কোনও বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না।

তাই Marriage Registration in India সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম জেনে যথাযথভাবে নথিভুক্তি সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ আইনি সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে কোনও পদক্ষেপ করার আগে যোগ্য আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *