তুলসী পাতার রস সেবন করলে ঠিক কী কী উপকার পাওয়া যায়?

Spread the love

তুলসী পাতার রস চোখের জন্যও উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

তুলসী গাছকে ভারতীয় আয়ুর্বেদে ‘মহৌষধি’ বলা হয়। ঘরোয়া চিকিৎসা থেকে শুরু করে আধুনিক ভেষজ চিকিৎসায়ও তুলসী পাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে তুলসী পাতার রস সেবনে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। প্রাচীন শাস্ত্র ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা— দুই দিক থেকেই এর গুণাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রথমত, তুলসী পাতার রস শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও হাঁপানি সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকরী। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে এবং কফ জমা কমায়। নিয়মিত কয়েক ফোঁটা রস মধুর সঙ্গে খেলে শ্বাসযন্ত্র অনেকটাই সুস্থ থাকে।

দ্বিতীয়ত, তুলসী পাতার রসে জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে। এটি শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই মৌসুমি ফ্লু, ভাইরাল জ্বর বা সাধারণ সংক্রমণ রুখতে তুলসীর রস এক অসাধারণ প্রাকৃতিক প্রতিরোধক।

তৃতীয়ত, তুলসী রস হজম শক্তি বাড়ায়। পেটের গ্যাস, অম্বল বা হজমে সমস্যা হলে তুলসী পাতার রস খেলে আরাম মেলে। এছাড়া এটি লিভারকে সক্রিয় রাখে, ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়।

চতুর্থত, নিয়মিত তুলসীর রস সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগীদেরও উপকার হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, তুলসীর নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পঞ্চমত, তুলসী পাতার রসে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমানোর ক্ষমতা আছে। এতে থাকা অ্যাডাপ্টোজেনিক উপাদান মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে, ঘুম ভালো হয় এবং মানসিক স্থিতি বজায় থাকে।

ষষ্ঠত, তুলসী পাতার রস ত্বক ও চুলের জন্যও দারুণ উপকারী। এটি রক্ত বিশুদ্ধ করে, ফলে ব্রণ বা ত্বকের সংক্রমণ কমায়। চুল পড়া রোধে এবং খুশকি দূর করতেও তুলসীর রস কার্যকর।

তুলসী পাতার রস শুধু রোগ নিরাময়েই নয়, শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সময়ে দূষণ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তুলসীতে থাকা ভিটামিন সি ও জিঙ্ক শরীরকে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বড় সংক্রমণের বিরুদ্ধেও শরীর লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করে।

অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে তুলসী পাতার রস হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী। এটি কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত তুলসী রস সেবনে হৃদ্‌পেশি মজবুত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে আসে। তাই যারা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন বা ঝুঁকিপূর্ণ বয়সে পৌঁছেছেন, তাদের জন্য তুলসীর রস বিশেষ উপকারী।

আরেকটি বড় উপকারিতা হলো তুলসীর রস কিডনি রক্ষায় সহায়ক। এটি প্রাকৃতিক ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে, ফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা কমাতে তুলসী রস লেবুর রসের সঙ্গে খাওয়া বিশেষভাবে কার্যকর। প্রাচীন আয়ুর্বেদে কিডনির সুস্থতার জন্য তুলসীর রস একটি পরীক্ষিত ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তুলসী পাতার রস চোখের জন্যও উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। অনেক সময় চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা কনজাংকটিভাইটিস হলে তুলসী পাতার রসের ফোঁটা ব্যবহার করলে উপকার মেলে। তবে এ ধরনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।

তুলসী পাতার রস বয়স প্রতিরোধেও কার্যকর বলে মনে করা হয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি-র‍্যাডিকাল থেকে রক্ষা করে, ফলে বার্ধক্যজনিত সমস্যা অনেকটা দেরিতে আসে। ঝরে পড়া ত্বক, বলিরেখা বা চুল পাকা— এসব ক্ষেত্রে তুলসী রস সেবন করলে ও বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তুলসী পাতার রস একাধারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শ্বাসযন্ত্রকে রক্ষা করে, হজমে সহায়তা করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই নিয়মিত ব্যবহারের আগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *