বাংলাদেশের রাজনীতিতে Sheikh Hasina (শেখ হাসিনা) এমন একটি নাম, যা একই সঙ্গে সংগ্রাম, নেতৃত্ব, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও বিতর্কের প্রতীক। তিনি শুধু জাতির পিতা Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman-এর কন্যা নন; বরং একাধিক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবিদদের একজন। তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক উত্থান, পরিবার হারানোর ট্র্যাজেডি, দীর্ঘদিনের নির্বাসন, আন্দোলন, ক্ষমতায় ফেরা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন বিতর্ক—সব মিলিয়ে Sheikh Hasina-র জীবন বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়।
এই নিবন্ধে তাঁর জীবনের বিস্তৃত অংশ সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে—যা Google Discovery-র জন্য উপযোগী, SEO-optimized এবং পাঠকের কৌতূহল বাড়ানোর মতো করে নির্মিত।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষাজীবন
Sheikh Hasina জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন পূর্ববঙ্গের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায়। তাঁর পিতা Sheikh Mujibur Rahman ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে অসামান্য ভূমিকা রাখা এক কিংবদন্তি নেতা।
শেখ হাসিনার মা Sheikh Fazilatunnesa Mujib একজন সাহসী ও সুদৃঢ়চেতা নারী ছিলেন। রাজনীতিনির্ভর পরিবারে বড় হওয়ার কারণে শিশু বয়স থেকেই তাঁর চিন্তা, অভ্যাস ও মনের ভিত রাজনীতি ও দেশপ্রেমের ধারণায় রঙিন হয়ে ওঠে।
তিনি টুঙ্গীপাড়া এবং পরে ঢাকায় তাঁর প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বাবার বারবার গ্রেপ্তার হওয়া, পরিবারকে ঘিরে অনিশ্চয়তা—এসব অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তি গঠনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট: জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস যেমন উজ্জ্বল, তেমনই অন্ধকারে পরিপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নেতিবাচক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় ঘটে। সেই ভোরে সশস্ত্র বাহিনীর একটি দুষ্টচক্র জাতির পিতা Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman-কে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।
এই দিনটি Sheikh Hasina-র জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়। সৌভাগ্যবশত তিনি এবং তাঁর ছোট বোন Sheikh Rehana তখন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাঁরা প্রায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু পুরো পরিবার হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে চিরতরে রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়শূন্য অবস্থায় বিদেশে নির্বাসন জীবন কাটান। এই সময় তিনি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নানাভাবে কাজ করে যান।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান
১৯৮১ সালের ১৭ মে Sheikh Hasina বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সেদিন ঢাকার এয়ারপোর্টে লক্ষাধিক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। ফিরে আসার পরপরই তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়—যেখানে তিনি আজও দলের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
১৯৮০-র দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলছিল। Sheikh Hasina সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি বারবার হুমকি, হামলা, গ্রেপ্তার ও হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হন, কিন্তু কখনও পিছিয়ে যাননি।
বিরোধী দলনেতা থেকে দেশের প্রথম পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী (১৯৯৬–২০০১)
১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে Sheikh Hasina বিরোধী দলনেতা হন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত হলে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এই পাঁচ বছরের সময়কাল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো হলো:
- চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (CHT) শান্তিচুক্তি
- ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি
- খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
- দরিদ্র-বান্ধব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসার
- শিক্ষা খাতে বিশেষভাবে নারীশিক্ষা বিস্তার
এগুলো বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২০০১ থেকে ২০০৮: রাজনৈতিক অস্থিরতা, হামলা ও বেঁচে ফেরা
এই সময়টিতে Sheikh Hasina-র রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্ক, আন্দোলন, ষড়যন্ত্র ও বিপদের সম্মুখীন হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে Grenade Attack-এ তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। Sheikh Hasina অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
এই ঘটনাটি Bangladesh politics-এ গভীর ক্ষত তৈরি করে।

২০০৯ থেকে ২০২৪: দীর্ঘদিনের ক্ষমতায় থাকা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর Sheikh Hasina ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এ আবারও নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হন।
এই সময়ে তাঁর সরকারের উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে বিপ্লব ঘটে:
১. ডিজিটাল বাংলাদেশ
বাংলাদেশকে ডিজিটাল যুগে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। এর ফলে সারাদেশে ইন্টারনেট, আইটি শিল্প, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল সেবা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২. অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্প
- পদ্মা সেতু
- মেট্রোরেল
- কর্ণফুলী টানেল
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
- এক্সপ্রেসওয়ে ও আধুনিক রেলপথ
এসবের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে।
৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনীতি
রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক মহলে Sheikh Hasina-র প্রশংসা বাড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বাংলাদেশ নতুনভাবে গুরুত্ব পায়।
উন্নয়নের পাশাপাশি সমালোচনা ও বিতর্ক
যে কোনও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতো Sheikh Hasina-র নেতৃত্ব নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে।
সমালোচনার বিষয়গুলো যেমন—
- মানবাধিকার পরিস্থিতি
- রাজনৈতিক বিরোধী দমন-পীড়নের অভিযোগ
- নির্বাচনকে ঘিরে প্রশ্ন
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলে এসব ইস্যু প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে তাঁর সমর্থকদের মতে—বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল।

ব্যক্তিগত জীবন ও মানবিক দিক
Sheikh Hasina ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী Dr. M. A. Wazed Miah-কে বিবাহ করেন। তাঁদের দুই সন্তান—সাজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ।
রাজনীতির উত্থান-পতন, পরিবার হারানোর যন্ত্রণা এবং বারবার রাজনৈতিক হামলার মধ্যেও Sheikh Hasina অত্যন্ত ধৈর্য, শক্তি এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেন বলে সমর্থকদের বিশ্বাস।
ট্রেন্ডিং প্রসঙ্গ (২০২৪–২০২৫): কেন Sheikh Hasina আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তন, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, এবং গণতন্ত্র-বিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনায় বারবার উঠে এসেছেন। তাঁর নেতৃত্বকে কেউ উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার গণতান্ত্রিক প্রশ্ন তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং কূটনৈতিক মহলে Sheikh Hasina-কে নিয়ে আলোচনা কখনও কমেনি।
রূপান্তর, উত্তরাধিকার ও মূল্যায়ন
Sheikh Hasina এমন এক নেত্রী, যিনি একই সঙ্গে উন্নয়ন, সাহস, দৃঢ়তা, ট্র্যাজেডি, বেঁচে ফেরা ও বিতর্ক—সব কিছুর সমন্বয়। কেউ তাঁর বিকল্প দেখে না, আবার কেউ তাঁর নীতিকে প্রশ্ন করে। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই—তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন।
তাঁর নেতৃত্ব ভবিষ্যতের বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা ইতিহাসের পাতা বলবে, তবে তিনি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের আধুনিক যাত্রায় একটি বিশাল অধ্যায় রচনা করে ফেলেছেন।
সূত্র ও রেফারেন্স
- Wikipedia – Sheikh Hasina Profile
https://en.wikipedia.org/wiki/Sheikh_Hasina - Encyclopedia Britannica – Sheikh Hasina Biography
https://www.britannica.com/biography/Sheikh-Hasina-Wazed - Adda247 – Sheikh Hasina Biography: Life, Education, Political Journey
https://currentaffairs.adda247.com/sheikh-hasina-biography/ - JagranJosh – Sheikh Hasina Biography, Family & Political Career
https://www.jagranjosh.com/general-knowledge/sheikh-hasina-biography-1662437728-1
Frequently Asked Questions (FAQ)
Q1. Sheikh Hasina কবে জন্মগ্রহণ করেন?
Sheikh Hasina ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
Q2. ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ তাঁর পরিবারে কী বড় ট্র্যাজেডি ঘটে?
১৫ আগস্ট সশস্ত্র বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করে। Sheikh Hasina তখন বিদেশে থাকায় বেঁচে যান।
Q3. Sheikh Hasina প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন কখন?
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন।
Q4. Sheikh Hasina-র নেতৃত্বে কোন বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে?
পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক্সপ্রেসওয়ে সহ একাধিক মেগা প্রকল্প তাঁর নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে।
Q5. Sheikh Hasina-র নেতৃত্ব নিয়ে কেন বিতর্ক রয়েছে?
মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বাচন, রাজনৈতিক বিরোধীদলের প্রতি কঠোরতা ইত্যাদি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হয়েছে।