ISRO Massive Expansion: কেন বলা হচ্ছে “আগামী ১০ বছর ভারতের মহাকাশ বিপ্লবের সময়”?

Spread the love

ভারতের মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্র এখন এক নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান V. Narayanan সম্প্রতি জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের মধ্যে তারা আরও সাতটি উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে—যা নিজে থেকেই একটি ঝকঝকে বার্তা। পাশাপাশি, দেশের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা ‘Gaganyaan’–এর সময়সূচিও যতোটা পরিকল্পনায় ছিল, ঠিক ততটাই অটুট রয়েছে: মানুষের মহাকাশযাত্রা হবে ২০২৭ সালে

এই তথ্য তেমনভাবে আসে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে। নারায়ণন বলেন, “বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্রুত সম্প্রসারণের দিকে এগোচ্ছে এই সংস্থা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মহাকাশখাতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।” সংকেত স্পষ্ট—এখন শুধু কথায় নয়, সময়সূচি ও পরিকল্পনায় দ্রুত পরিসঞ্চালন দেখতে চাইছে ভারত।

বর্তমান অবস্থায় বেশ কয়েকটি মিশন একসাথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ, একাধিক PSLV ও GSLV মিশন, এমনকি পুরোপুরি ভারতীয় বেসরকারি শিল্প দ্বারা তৈরি প্রথম PSLV রকেট–ও এবার অপেক্ষায় রয়েছে। জিইয়ে তোলা হয়েছে কর্মপরিকল্পনা, এবং বেশ কয়েকটি মাইলস্তম্ভ ঠিক হওয়ার পথে রয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে Chandrayaan‑4 মিশন—চাঁদের মাটিতে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফেরত আনার এক অত্যন্ত জটিল অভিযান। এ রকম সক্ষমতা বর্তমানে মাত্র কয়েকটি রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। নারায়ণন জানিয়েছেন, “আমরা ২০২৮ সালে চন্দ্রযান-৪ মিশন পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ করছি।” এছাড়া, LUPEX নামে জাপানের সঙ্গে যৌথ লুনার পোলার এক্সপ্লোরেশন মিশনও দেখা দিয়েছে, যেখানে ভারত–জাপান মিলে নতুন গবেষণা করবে চাঁদের উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর দিকে।

ISRO আরও জানাচ্ছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে তারা “বার্ষিক মহাকাশযান তৈরির সংখ্যা তিনগুণ বাড়ানোর” প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ মিশনের চাহিদা বাড়ছে দ্রুত—কেবল রকেট উৎক্ষেপণ নয়, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, গ্যাস স্যাটেলাইট, যোগাযোগ স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, এমনকি ভবিষ্যতে মানবমিশনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

তাছাড়া, ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। একাধিক মডিউলে বিভক্ত তার এই স্টেশনটি ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। নারায়ণন জানিয়েছেন, “পাঁচটি মডিউলের প্রথমটি ২০২৮ সালেই কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।” এই মহাকাব্যিক পরিকল্পনা শুধু সায়েন্সফিকশন নয়, এখন বাস্তবপক্ষে রূপ নেওয়ার পথে।

গগনযান মিশনের সাংকেতিক সময়সূচি উল্লেখযোগ্য। মানব-শূন্য মিশন হয়তো একটু সামনের দিকে এগিয়েছে, কিন্তু মানুষের মহাকাশযাত্রা-জনিত ক্রু মিশনের সময়সূচি ২০২৭ সালেই ধরে রাখা হয়েছে। এই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৫ সালেও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিষ্কার বলা হচ্ছে—২০২৭ এ ভারতীয় নভোচারীরা মহাকাশে যাবেন এবং ফিরে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ইতিমধ্যে ISRO-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে পাঠিয়ে নিরাপদে ফেরানোর লক্ষ্য স্থির করতে। এই সিদ্ধান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিগন্যাল। ভারতের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে, যেখানে দেশ হবে বিশ্বের শীর্ষ মহাকাশ শক্তিগুলোর কাতারে।

বর্তমানে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় ২ শতাংশ। ISRO-র লক্ষ্য এই অংশীদারিত্বকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার। অর্থাৎ মহাকাশ অর্থনীতির কেটে ভারত তার অবস্থান বহুগুণে বাড়াতে চায়। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে বাড়তে পারে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৬৩০ বিলিয়ন ডলার; এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে উঠতে পারে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে।

স্পেস সেক্টরে সংস্কার নেওয়ার ফলে বেসরকারি অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে। নারায়ণন জানান, বর্তমানে ভারতের মহাকাশ ইকোসিস্টেমে ৪৫০+ শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ৩৩০+ স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে—যেখানে কয়েক বছর আগেও স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি। স্পেস রকেট থেকে স্যাটেলাইট, বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবা থেকে স্টার্টআপ ইনোভেশন—সবক্ষেত্রেই পরিবর্তন সাড়া দিচ্ছে।

২০২০ সালের পরবেছে নীতিসমূহ সংশোধিত হয়েছে—বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছে রকেট তৈরি, স্যাটেলাইট নির্মাণ ও বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবা দেওয়ার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ভারতের মহাকাশ শিল্পকে গতিশীল করে তুলেছে, দ্রুততা এনে দিয়েছে।

ISRO Chairman V. Narayanan smiling during interview, sitting at his office desk

বর্তমান পর্ব ও কি দাঁড়ানো প্রতিষ্ঠিত

ISRO-র এই ব্যস্ত সময় শুধু পরিকল্পনায় নেই—বাস্তবতায় কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সাতটি মিশনের কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। এই মিশনগুলো শুধু সংখ্যার বাড়বাড়ি নয়, প্রকৃত অর্থে পাঠ্য ও প্রযুক্তিগত উত্তরণ ঘটাবে। যেমন বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট, প্রথম ভারতীয় বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ—এই দু’টি ঘটনায় ভারতীয় মহাকাশশিল্পের “নিজের পায়ে দাঁড়ানোর” মনোবল স্পষ্ট।

চাঁদের মাটিতে নমুনা আনার চ্যালেঞ্জে লেগেছে চন্দ্রযান-৪। কয়েক দেশের জন্য অনভিজ্ঞ এই মিশন অত্যন্ত উচ্চমাত্রার প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ বহন করে—মাধ্যাকর্ষণ, উৎক্ষেপণ ও পুনরায় ফিরিয়ে আনা সব মিলিয়ে। এই মিশনে সফল হলে, ভারত তিন বড় মহাকাশ শক্তির সঙ্গে নিজেকে সমমঞ্চে দাঁড় করাতে পারবে।

মানব মহাকাশযাত্রার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, গগনযান মিশনের জন্য ইতিমধ্যে তিনটি মানব-শূন্য পরীক্ষামূলক মিশনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সফল হলে ২০২৭ সালে ভারতের প্রথম ক্রু মিশন হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় রকেট, স্যাটেলাইট, মিড-অরবিট কার্যক্রম, নভোচারীদের নিরাপত্তা—all একসঙ্গে এগোচ্ছে।

স্পেস স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগও দীর্ঘকালের। ২০৩৫ সালের মধ্যে পাঁচটি মডিউল নিয়ে ভারতের নিজস্ব স্টেশন কক্ষপথে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে রকেট উৎক্ষেপণ, রোবোটিক মডিউল, লং ডিউরেশন লাইভিং ইত্যাদি বিষয় প্রথম থেকেই চিন্তা করতে শুরু হয়েছে। প্রথম মডিউল ২০২৮ সালেই উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

এই সমস্ত পরিকল্পনার সূচনা একাধিক সুযোগ তৈরি করেছে—ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাণিজ্যের অংশ, সহ-মিশন সহযোগিতা। বেসরকারি রকেট নির্মাতা শুরু হয়েছে, স্টার্টআপ এন্ট্রি বাড়ছে, খরচ কমাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দ্রুত হচ্ছে। ফলে “ইন্ডিয়া অ্যাজ স্পেস পাওয়ার” কথাটি এখন কেবল বক্তৃতায় নয়, বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। মহাকাশমিশনের ব্যয়, সময়সাপেক্ষ প্রস্তুতি, মানুষের মহাকাশ অভিযানে সেফটি ইস্যু, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জিও-পলিটিক্যাল চাপ—সবকিছু মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যেমন প্রথম মানব মিশন সফল না হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। চাঁদ-নমুনা রিটার্ন মিশনে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দুই দিকেই জরুরি প্রতিক্রিয়া আসবে।

যেখানে সভ্যতার জন্য মহাকাশ থেকে আগত তথ্য যেমন আবহাওয়া পূর্বাভাস, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ স্যাটেলাইট—এই সবই ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। ISRO-র এই বাড়তি কার্যক্রম এসব সেবাকে আরও শক্তিশালী করবে। একদিকে দ্রুত উৎক্ষেপণ সংখ্যা বাড়ালে সকল স্তরে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে উদ্ভাবন ও শিল্পচলন ত্বরান্বিত হবে।

এক নজরে ভারতের মহাকাশ খাতের রূপান্তর

ভারত এখন কেবল রকেট বা স্যাটেলাইট নয়, একটি মহাকাশ ইকোসিস্টেম গড়ছে—যেখানে শিল্প, স্টার্টআপ, শিক্ষা, গবেষণা, উৎপাদন সবই একত্রে চলছে। ২০২০-এর পর বেশ কয়েকটি নীতি পরিবর্তিত হয়েছে, যা এই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, রকেট উৎক্ষেপণ পরিষেবায় বেসরকারি সংস্থা প্রবেশ করেছে। স্যাটেলাইট নির্মাণে ভারতীয় কোম্পানিগুলো অংশ নিচ্ছে। মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সক্রিয়। ৩০ বছরের পুরনো কেবল রাষ্ট্রীয় অভী ন্তর থেকে এখন বহুপাক্ষিক অংশগ্রহণের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।

এই পরিবর্তন শুধু ভেতরে নেই—বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বাড়ছে। অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ মিশন, প্রযুক্তি বিনিময়, উৎক্ষেপণ সেবায় অংশগ্রহন সবই প্রগাঢ় হচ্ছে। ভারতের বিশ্ববাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ার লক্ষ্যে ISRO-র পরিকল্পনায় রয়েছে।

ভারতের মনোবল ও ভবিষ্যৎ ভিশন

চালু অর্থবছরে সাতটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা, ২০২৭ সালে মানব মিশন, ২০২৮-৩০ এ চাঁদের নমুনা রিটার্ন, ২০৩৫ এ নিজস্ব স্টেশন—এসব লক্ষ্য একসঙ্গে যেমন সাহসী, তেমনি ব্যাপক। দেশের জন্য এটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়—আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় গৌরবের বিষয়।

জীবনের প্রতিটি স্তরে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রভাব বাড়ছে। যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষাদান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মহাকাশ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। তারপরও মহাকাশ অভিযান কেবল প্রযুক্তি নয়—এটি ভাবনায়, মনোবলে, পরিকল্পনায় ও সময়সূচিতে সংহত। এই জায়গায় ISRO বা ভারতের মহাকাশ ঘাঁটি তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

আগামী ধাপঃ এক নজরে

– চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে সাতটি উৎক্ষেপণ।
– মানব-শূন্য ও ক্রু মিশনের জন্য প্রস্তুতি ত্বরান্বিত।
– চাঁদ-নমুনা রিটার্ন মিশনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি দৃঢ়।
– নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের প্রস্তুতি দ্রুত।
– বেসরকারি শিল্প ও স্টার্টআপ অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
– আন্তর্জাতিক বোর্ডের সঙ্গে ভারতীয় অংশীদারিত্ব সম্প্রসারিত।

এই ধাপে সফলতা পেলে ভারত কেবল সফল মিশন নির্ধারণ করবে না—এটি মহাকাশের বিশ্বমানচিত্রে কার্যকর খেলোয়াড় হিসেবে প্রতীয়মান হবে। আর সেই দিকে এখনই হাঁটছে।


You Can Also Check:
https://newsprimetimes.com/


Sources & References:
The Hindu
https://thehindu.com/sci-tech/science/interview-with-isro-chairman-v-narayanan

Times of India
https://timesofindia.indiatimes.com/city/varanasi/india-to-have-its-space-station-by-2035-isro-chief/articleshow/124614545.cms

Economic Times
https://economictimes.com/news/defence/10-satellites-monitoring-round-the-clock-to-ensure-national-safety-and-security-isro-chairman-v-narayanan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *