প্রথমেই জানা দরকার, মাশরুম চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। এটি ঘরের ভেতরে, বাঁশ, খড়, বা পলিথিন শেড ব্যবহার করেও করা যায়।
মাশরুম চাষ আজকের দিনে একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। অল্প মূলধন, কম জমি এবং সহজ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটি শুরু করা যায়। বর্তমানে বাজারে মাশরুমের চাহিদা অনেক বেশি, কারণ এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই অনেকেই চাষ করে ভালো আয় করছেন। এবার বিস্তারিতভাবে দেখা যাক কীভাবে মাশরুম চাষ করে আয় করা সম্ভব।
প্রথমেই জানা দরকার, মাশরুম চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। এটি ঘরের ভেতরে, বাঁশ, খড়, বা পলিথিন শেড ব্যবহার করেও করা যায়। যাদের বাড়িতে খালি ঘর বা বারান্দা রয়েছে, সেখান থেকেই ছোট আকারে শুরু করা সম্ভব। অর্থাৎ, এটি শহর এবং গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে করা যায়।
চাষ শুরু করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাশরুমের স্পন বা বীজ। এটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি গবেষণা কেন্দ্র কিংবা অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হয়। একবার স্পন পেলে খড়, ধানের তুষ বা কাঠের গুঁড়ো ব্যবহার করে মাশরুম উৎপাদন শুরু করা যায়।
চাষের পরিবেশ তৈরি করাটাও জরুরি। মাশরুম আর্দ্রতা ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। তাই ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা, বায়ু চলাচল এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে। সঠিক পরিবেশে চাষ করলে ১৫–২০ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা সম্ভব হয়।
আয়ের দিক থেকে দেখলে, ১ কেজি মাশরুমের বাজারমূল্য সাধারণত ১৫০–২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায় (কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে আরও বেশি)। এক বিছানায় বা এক ইউনিটে প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি মাশরুম উৎপাদন হয়। অর্থাৎ, যদি কেউ ৫০–১০০ ইউনিট দিয়ে শুরু করেন, তবে মাসে সহজেই ৩০–৪০ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি সম্ভব।
শুধু তাজা মাশরুম বিক্রিই নয়, শুকনো মাশরুম, আচার, স্যুপ পাউডার, প্যাকেটজাত মাশরুম ইত্যাদি ভ্যালু-অ্যাডেড প্রোডাক্ট তৈরি করেও আরও বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং সুপারমার্কেটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ক্রেতা পাওয়া সহজ হয়।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—মাশরুম চাষে অন্যান্য কৃষি ফসলের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার ফসল তোলা যায়, ফলে আয়ের চক্রটিও দ্রুত ঘুরতে থাকে।
মাশরুম চাষে সফল হতে হলে সঠিক বাজার গবেষণা করা খুবই জরুরি। আপনার এলাকায় মাশরুমের চাহিদা কতটা, কোন ধরনের মাশরুম বেশি বিক্রি হয়, দাম কত রাখা উচিত—এসব বিষয়ে আগেই তথ্য সংগ্রহ করলে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, স্থানীয় বাজারের বাইরে নিকটবর্তী শহরে বা অনলাইনে বিক্রি করলে দাম তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো পাওয়া যায়।
চাষের পাশাপাশি মান বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাশরুম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই ফসল তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে সরবরাহ করা উচিত। যদি প্যাকেটজাত করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তবে দীর্ঘ সময় বিক্রির সুযোগ থাকে। ক্রেতারা সাধারণত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে প্যাক করা পণ্যই বেশি পছন্দ করেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন ও প্যাকেজিং করলে ব্র্যান্ড তৈরি করা সহজ হয়।
অভিজ্ঞ চাষিরা বলেন, একবার মাশরুম ব্যবসা শুরু হলে এটি ধীরে ধীরে একটি টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত হয়। কৃষকের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও চাকরির বিকল্প হিসেবে এটি গ্রহণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সমবায় পদ্ধতিতে দল গড়ে চাষ করা হয়, ফলে খরচ কমে যায় এবং লাভ ভাগাভাগি করাও সহজ হয়। এভাবে মাশরুম চাষ শুধু ব্যক্তিগত আয় বাড়ায় না, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।