মিডিয়া যখনই কোনো তারকার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর আলোকপাত করে, তখন অনেক সময় সত্য ও গুজব একসাথে মিশে যায়।
মালাইকা আরোরা বলিউডের এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও ফ্যাশন আইকন। তাকে ঘিরে প্রায়ই গুঞ্জন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে। তবে “পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া” প্রসঙ্গে বলতে গেলে এখানে কিছু বাস্তব তথ্য ও কিছু মিডিয়ার তৈরি করা গসিপকে আলাদা করে দেখা দরকার।
মালাইকা আরোরা দীর্ঘ সময় অভিনেতা, পরিচালক ও টিভি হোস্ট আরবাজ খানের স্ত্রী ছিলেন। তাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৮ সালে এবং একসাথে প্রায় ১৮ বছর সংসার করার পর ২০১৬ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। ২০১৭ সালে আইনি বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। বিচ্ছেদের পর বলিউডের মিডিয়া জগতে নানা জল্পনা শুরু হয় যে মালাইকা নাকি আরবাজের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীনই অন্য কারো প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই জল্পনাই “পরকীয়া” শব্দটিকে সামনে নিয়ে আসে।
বিশেষ করে, অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার সম্পর্ক নিয়েই সবথেকে বেশি আলোচনা হয়েছে। তারা প্রকাশ্যে একসাথে দেখা দিতে শুরু করার পর গসিপ পত্রিকাগুলো নানা প্রশ্ন তোলে—এই সম্পর্ক কি আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণ? যদিও মালাইকা ও অর্জুন দুজনেই একাধিকবার বলেছেন, তাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদের অনেক পর শুরু হয়েছে, এর সঙ্গে “পরকীয়া”র কোনো সম্পর্ক নেই।
মিডিয়া যখনই কোনো তারকার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর আলোকপাত করে, তখন অনেক সময় সত্য ও গুজব একসাথে মিশে যায়। মালাইকা নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাকে নিয়ে অনেক ভুল খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এটাও বলেছেন যে, একজন নারী যদি স্বামী থেকে আলাদা হন, তবে তাকে নিয়ে “পরকীয়া”র অভিযোগ তোলা বলিউডে যেন এক ধরনের রীতি।
মালাইকা আরোরা এবং অর্জুন কাপুরের সম্পর্ক শুরুতে ছিল বেশ গোপন। দুজনকে একসাথে পার্টি বা ফ্যাশন শোতে দেখা গেলেও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন একই গাড়িতে, একই রেস্টুরেন্টে কিংবা বিদেশ ভ্রমণে তাদের দেখা যেতে লাগল, তখন আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালে করণ জোহরের টিভি শোতে অর্জুন কাপুর প্রকাশ্যে মালাইকার নাম না নিয়ে বলেছিলেন, তিনি কাউকে ডেট করছেন এবং খুব সুখী। এরপর থেকে তারা নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।
এই সম্পর্ক সামনে আসার পর থেকেই বলিউড ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তাদের ভালোবাসাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলেও সমালোচনার ঝড়ও কম ওঠেনি। বিশেষ করে মালাইকা ও অর্জুনের বয়সের পার্থক্য নিয়ে ট্রোল ও নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়। মালাইকা অর্জুনের থেকে প্রায় ১২ বছর বড়—এ কারণে সমালোচকরা নানা রকম কটাক্ষ করেন। তবে তারা দুজনেই এসবকে উপেক্ষা করে নিজেদের সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার চেষ্টা করেন।
আরেকটি বড় বিষয় হলো, মালাইকা বারবার বলেছেন তিনি তার ছেলে আরহান খানকে সবকিছুর উপরে রাখেন। বিচ্ছেদের সময়েও তিনি খেয়াল রেখেছিলেন যাতে সন্তানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। অর্জুন কাপুরও এ ব্যাপারে বুঝদার ভূমিকা পালন করেছেন। ধীরে ধীরে আরহানও মায়ের জীবনের নতুন অধ্যায়কে মেনে নিতে শুরু করেন।
বলিউডের আরও কিছু তারকা যেমন করণ জোহর, করিনা কাপুর খান বা সুজান খান তাদের সম্পর্ককে সমর্থন করেছেন। তারা বলেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেখানে “পরকীয়া” বা নেতিবাচক লেবেল দেওয়ার কোনো মানে হয় না। মালাইকা নিজেও বলেছেন, একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তিনি অনেক চাপ সহ্য করেছেন, কিন্তু অর্জুনের মতো একজন সঙ্গী পাশে পাওয়া তার জীবনে ইতিবাচকতা এনেছে।
বর্তমানে মালাইকা ও অর্জুন প্রায়ই একসাথে ইভেন্ট, পার্টি, ছুটি কাটাতে দেখা যায়। যদিও মাঝে মাঝে তাদের বিচ্ছেদের গুজব ওঠে, কিন্তু তারা দুজনেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সম্পর্ক ভাঙা বা ভেঙে ফেলার কোনো প্রশ্নই নেই। তারা এখনও একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ এবং একসাথে সুখী। মূলত, যেটাকে অনেকেই “পরকীয়া” বলে প্রচার করেছিলেন, সেটি আসলে তাদের বিচ্ছেদের পর শুরু হওয়া নতুন সম্পর্ক—যা আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রেমকাহিনী।