Asia Cup 2025 Points Table: আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার ফোরের আশা বাঁচাল বাংলাদেশ

Spread the love

এশিয়া কাপ ২০২৫–এর আবুধাবি পর্বে মঙ্গলবার এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ ৮ রানে হারাল আফগানিস্তানকে। এই জয়ের ফলে গ্রুপ বি-তে বাংলাদেশের সুপার ফোরে ওঠার আশা বেঁচে রইল। আফগানিস্তানকে হারিয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করল বাংলাদেশ। তবে তাঁদের নেট রান রেট এখনো ঋণাত্মক (-০.২৭০), যা আফগানিস্তান (+২.১৫০) এবং শ্রীলঙ্কা (+১.৫৪৬)-এর তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

এই ম্যাচের আগে লিটন দাসের দল কার্যত এলিমিনেশন জোনে ছিল। কিন্তু মুশফিকুরদের লড়াই আর মুস্তাফিজুর রহমান–নাসুম আহমেদদের বোলিং ম্যাজিকেই বদলে গেল ছবিটা।


Bangladesh vs Afghanistan: Match Highlights

বাংলাদেশ টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট হাতে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। সাইফ হাসানও শুরুটা ভালো করেছিলেন, তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ইনিংসটা বড় রান পায়নি। শেষমেশ বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৪/৫ তোলে।

আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান এবং নূর আহমেদ দুর্দান্ত বল করে প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। তাঁদের স্পিনের জালে কার্যত আটকে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে আফগান ব্যাটাররা দাপট দেখাতে শুরু করেছিল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও ম্যাচ প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আফগানিস্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমান (৩/২৮), নাসুম আহমেদ (২/১১), রিশাদ হোসেন (২/১৮) এবং তাসকিন আহমেদ (২/৩৪)-এর ধারাবাহিক আক্রমণে ভেসে যায় আফগান ইনিংস। শেষমেশ বাংলাদেশ ৮ রানে জয় পায়।


Group B Qualification Scenario

এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তবে নেট রান রেটের কারণে তাঁদের এখনও শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে।

  • শ্রীলঙ্কা: ইতিমধ্যেই ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। নেট রান রেট +১.৫৪৬।
  • বাংলাদেশ: ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, নেট রান রেট -০.২৭০।
  • আফগানিস্তান: ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট, নেট রান রেট +২.১৫০। শেষ ম্যাচে জয় পেলে ৪ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে।
  • হংকং: ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে।

অর্থাৎ আফগানিস্তান যদি শেষ ম্যাচে জেতে, তবে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান—তিন দলেরই ৪ পয়েন্ট হবে। তখন সিদ্ধান্ত নেবে নেট রান রেট। এখানেই বাংলাদেশ পিছিয়ে।


Group A Qualification Scenario

গ্রুপ এ-তে অবস্থাও সমান রোমাঞ্চকর।

  • India: ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপার ফোরে যোগ্যতা অর্জন করেছে।
  • Pakistan: যদি UAE-কে হারায়, তবে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার ফোরে যাবে। হারলে বাদ পড়বে।
  • UAE: পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করবে। যদি ম্যাচ টাই বা নো-রেজাল্ট হয়, পাকিস্তান বাদ পড়বে, UAE-ও বাদ পড়বে।
  • Oman: ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে (০ পয়েন্ট)।

Mustafizur and Spin Trio Shine

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আফগান ব্যাটাররা যখন নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে নেমেই আঘাত হানেন। তাঁর ৩/২৮ স্পেলই ম্যাচে বাংলাদেশের ভরসা ফিরিয়ে আনে।

স্পিনার নাসুম আহমেদ (২/১১) এবং রিশাদ হোসেন (২/১৮) একসঙ্গে আফগান ব্যাটারদের চাপে ফেলেন। তাঁদের বোলিংয়ের সামনেই ভেঙে পড়ে আফগান টপ অর্ডার।


Bangladesh Batting: Good Start, Weak Middle

ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। তানজিদ হাসান তামিম ৫২ রান করেন, কিন্তু অন্যরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে কিছুটা লড়াই করেছিলেন, তবে স্কোরবোর্ডে খুব বেশি রান যোগ হয়নি।

আফগান বোলাররা বিশেষত স্পিনার রশিদ খান ও নূর আহমেদ আক্রমণাত্মক ছিলেন। এই দুই বোলারই ইনিংসে গতি কমিয়ে দেন।


What This Win Means for Bangladesh

এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের সুপার ফোরের আশা টিকে থাকল। তবে সব নির্ভর করছে আফগানিস্তানের শেষ ম্যাচের ফলাফলের উপর। যদি আফগানিস্তান জেতে, তবে নেট রান রেট হবে নির্ণায়ক। আর সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লড়াই তাদের মনোবল বাড়াবে। মুস্তাফিজ, নাসুম, তাসকিন, রিশাদদের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।


Fans’ Reaction

বাংলাদেশের জয় দেখে ভক্তরা উচ্ছ্বসিত। সামাজিক মাধ্যমে মুস্তাফিজুর রহমান এবং তরুণ স্পিনারদের প্রশংসায় ভরছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। অন্যদিকে আফগান সমর্থকেরা হতাশ। ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোলিং আক্রমণের সামনে ধসে যায় তাঁদের আশা।


Upcoming Matches

  • গ্রুপ এ-তে পাকিস্তান বনাম UAE ম্যাচই নির্ধারণ করবে কে যাবে সুপার ফোরে।
  • গ্রুপ বি-তে আফগানিস্তানের শেষ ম্যাচ গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচের জয় নয়, বরং তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই ছিল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ রানের জয় পেয়ে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল নিজেদের সুপার ফোরের আশা টিকিয়ে রাখল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও চার পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনো সমীকরণে আছে। তবে নেট রান রেট ঋণাত্মক হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল থেকে যাচ্ছে। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সামনে এখনো সুযোগ আছে, ফলে শেষ পর্যন্ত কারা যাবে সুপার ফোরে, তা নির্ভর করছে আসন্ন ম্যাচগুলির ফলাফলের ওপর।

বাংলাদেশের এই জয় অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বিশেষত বোলাররা যেভাবে শেষ মুহূর্তে চাপ সামলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল, তা দলকে নতুন করে প্রেরণা জোগাবে। মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর অভিজ্ঞতায় আবারও প্রমাণ করলেন তিনি এখনো বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি আফগান ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। নাসুম আহমেদ এবং রিশাদ হোসেন দু’জন তরুণ স্পিনারও দারুণ বোলিং করেছেন, যাঁরা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় বল ফেলেছেন। তাসকিন আহমেদও তার গতি আর শার্পনেসে প্রমাণ করেছেন তিনি বাংলাদেশের আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা চোখে পড়েছে। তানজিদ হাসান তামিমের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউ বড় রান করতে পারেননি। এটা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলির জন্য একটা বড় দুশ্চিন্তার জায়গা। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে টিকে থাকতে হলে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। রশিদ খান এবং নূর আহমেদের মতো বিশ্বমানের স্পিনারদের বিরুদ্ধে রান করা সহজ নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় কিছু করতে হলে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে।

এই জয়ের ফলে আফগানিস্তান–শ্রীলঙ্কা ম্যাচ এখন কার্যত নকআউটের রূপ নিয়েছে। যদি শ্রীলঙ্কা জেতে, তাহলে বাংলাদেশ সুপার ফোরে যাওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু আফগানিস্তান জিতলে তিন দলেরই সমান চার পয়েন্ট হবে এবং তখন নেট রান রেট হবে ফয়সালার মাপকাঠি। সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকায় তাদের ভাগ্য অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ, জিতেও বাংলাদেশের স্বস্তি নেই।

তবে ক্রিকেট এমনই এক খেলা, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না। একদিনের ভালো পারফরম্যান্সই বদলে দিতে পারে সমীকরণ। বাংলাদেশকে তাই আশায় বুক বাঁধতেই হবে এবং অন্য ম্যাচগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের এই হিসাব-নিকাশ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। ভারত ইতিমধ্যেই গ্রুপ এ থেকে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ম্যাচ ঠিক করবে তাদের ভাগ্য। অন্যদিকে, গ্রুপ বি-তে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ দলের ভক্তদের কাছে এই জয় বড় অনুপ্রেরণা। হারের পরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় খেলোয়াড়দের। কিন্তু এই ধরনের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়। তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, আগামী দিনের জন্য বাংলাদেশ দলে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের এই জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিল—ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফলই নিশ্চিত নয়। শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করলে জয় পাওয়া সম্ভব, আর সেই বিশ্বাসই জোগাল এই জয়। এশিয়া কাপ ২০২৫-এর বাকি ম্যাচগুলো তাই আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে, যেখানে প্রতিটি বল, প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেট নির্ধারণ করতে পারে কারা উঠবে সুপার ফোরে আর কারা ছিটকে যাবে। বাংলাদেশের লড়াই এখনো শেষ হয়নি, বরং এই জয়ই তাদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *