এখনও পর্যন্ত এতগুলো বিয়ে করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! সত্যিই অবাক করা কান্ড….!

Spread the love

মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্য একেবারেই ভিন্ন রূপ নিয়েছিল। তিনি ট্রাম্পের জীবনে এক স্থিরতা এনেছিলেন বলে অনেকেই মনে করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু একজন ব্যবসায়ী বা রাজনীতিক নন, বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক ব্যক্তিত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি যেমন সবার নজরে এসেছেন, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষত বিবাহগুলো নিয়েও সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন, আর প্রতিটি বিয়েই একেকটি আলোচিত অধ্যায়।

ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ছিলেন চেকোস্লোভাকিয়ার প্রাক্তন স্কি প্লেয়ার ও মডেল ইভানা ট্রাম্প। ১৯৭৭ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং প্রায় দেড় দশকের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের তিন সন্তান জন্ম নেয়—ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং এরিক ট্রাম্প। ইভানা শুধু স্ত্রী হিসেবেই নন, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ব্যবসায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে সম্পর্ক টিকল না, ১৯৯২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

দ্বিতীয়বার ট্রাম্প বিয়ে করেন মার্লা মেপলসকে। তিনি ছিলেন একজন অভিনেত্রী এবং তাঁদের সম্পর্কও সেই সময় প্রচুর আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং সেই দাম্পত্য থেকে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যা টিফানি ট্রাম্প। তবে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, ১৯৯৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।

তৃতীয় ও বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্পত্য শুরু হয় ২০০৫ সালে। স্লোভেনিয়ার বাসিন্দা মেলানিয়া ছিলেন একজন পেশাদার মডেল। এই দম্পতির একটি সন্তান আছে—ব্যারন ট্রাম্প। ২০১৭ সালে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তখন মেলানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে আসেন। আজও তাঁরা একসঙ্গে সংসার করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি তিনবার বিয়ে করেছেন এবং দুইবার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন প্রমাণ করে যে তিনি শুধু রাজনীতি বা ব্যবসায় নয়, সম্পর্ক ও পারিবারিক অধ্যায় নিয়েও সমানভাবে আলোচিত। সমালোচনা, বিতর্ক, ভালোবাসা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বিয়েগুলো যেন তাঁর জীবনের বহুমুখী চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ছিল অত্যন্ত আলোচিত। কারণ তখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যম তোলপাড় হচ্ছিল। ইভানা শুধু তাঁর স্ত্রীই ছিলেন না, ট্রাম্প টাওয়ারসহ নানা প্রকল্পে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিচ্ছেদের পরও ইভানা নিউ ইয়র্কের উচ্চ সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, আর ট্রাম্পের সন্তানদের জীবনে একজন প্রভাবশালী অভিভাবক হিসেবে থেকে যান।

মার্লা মেপলসের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও তখনকার সময়ে গসিপ কলামে বড় জায়গা পেয়েছিল। তাঁদের বিয়ে হলেও, অনেকেই এটিকে স্বল্পস্থায়ী সম্পর্ক বলেই মনে করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বিচ্ছেদের সময় প্রচুর আর্থিক সমঝোতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। মার্লা যদিও পরবর্তীতে আলোচনার কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যান, তাঁদের কন্যা টিফানি ট্রাম্প রাজনীতির মঞ্চে বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিকবার।

মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্য একেবারেই ভিন্ন রূপ নিয়েছিল। তিনি ট্রাম্পের জীবনে এক স্থিরতা এনেছিলেন বলে অনেকেই মনে করেন। ২০০৫ সালে যখন তাঁদের বিবাহ হয়, তখন মেলানিয়া ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মডেলিং জগতে পরিচিত নাম। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি যদিও অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন, তবু তাঁর ফ্যাশন সেন্স এবং ব্যক্তিত্ব সবসময়ই সংবাদ শিরোনামে এসেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবাহগুলো শুধু ব্যক্তিগত জীবনের অংশ নয়, তাঁর জনসম্মুখের ভাবমূর্তির সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। প্রতিটি বিয়েই তাঁকে আলাদা অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও জীবনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসা, রাজনীতি ও পরিবার—সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের জীবন এক কথায় বহুমাত্রিক, আর তাঁর বিবাহগুলো সেই বহুমাত্রিক চরিত্রের অন্যতম প্রতিচ্ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *