এক জীবনে ৩০টিরও বেশি ডিগ্রি! পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের গল্প শুনলে অবাক হবেন!

Spread the love

আজকের দিনে যখন উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছে শুধু কর্মসংস্থানের মাধ্যম, সেখানে নিকোলসনের জীবন এক ভিন্ন শিক্ষা দেয়।

বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের নাম তাদের অস্বাভাবিক জ্ঞানার্জনের কারণে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। তবে মাইকেল ডব্লিউ. নিকোলসন, যিনি ড. ভি. কে. আর্মস্ট্রং নামেও পরিচিত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে ধরা হয়। কারণ, তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৩০টিরও বেশি একাডেমিক ডিগ্রি, যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং তাঁর শিক্ষাজীবন প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। নিকোলসন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নতুন নতুন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল অসাধারণ, আর এই আগ্রহই তাঁকে বিশ্বের সর্বাধিক ডিগ্রিধারী মানুষদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। জানা যায়, তাঁর কাছে রয়েছে অন্তত একটি ডক্টরেট ডিগ্রি, ২২টিরও বেশি মাস্টার্স ডিগ্রি এবং আরও অনেক স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এসব ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

তাঁর অধ্যয়নের ক্ষেত্রও অত্যন্ত বিস্তৃত। ধর্মতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাহিত্য—বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সাধারণত একজন মানুষ এক বা দুইটি বিষয়ে পড়াশোনা করে জীবনে একটি স্থিতিশীল পেশার পথে হাঁটেন, কিন্তু নিকোলসন ছিলেন একেবারেই আলাদা। তিনি কেবল জ্ঞানের জন্যই জ্ঞান অর্জন করেছেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিল শিক্ষার আনন্দ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে জ্ঞান যত বাড়বে, ততই জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হবে। ফলে তাঁর লক্ষ্য কখনও নির্দিষ্ট কোনও পেশায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তিনি একের পর এক নতুন ডিগ্রির সন্ধান করেছেন, যেন নতুন জ্ঞান ভান্ডারকে নিজের জীবনে যুক্ত করতে পারেন।

তবে নিকোলসনের এই অসাধারণ যাত্রা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনেকে মনে করেন, এত ডিগ্রি অর্জনের চেয়ে নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে গভীর গবেষণা ও অবদান রাখা আরও কার্যকর। কিন্তু নিকোলসনের জীবনপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে জ্ঞান অর্জনের কোনো সীমা নেই, আর মানুষের কৌতূহল যদি অবিচল থাকে তবে অসম্ভব কিছুই নয়।

আজকের দিনে যখন উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছে শুধু কর্মসংস্থানের মাধ্যম, সেখানে নিকোলসনের জীবন এক ভিন্ন শিক্ষা দেয়। তিনি দেখিয়েছেন, পড়াশোনার আনন্দই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তাঁর নাম আজ বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রেমী মানুষদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।

মাইকেল নিকোলসনের শিক্ষা অভিযাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং মানবমনের অসীম ক্ষমতার একটি প্রতিচ্ছবি। তিনি কখনও শিক্ষাকে কেবল চাকরি বা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রতিটি নতুন জ্ঞান মানুষের দৃষ্টিকে আরও প্রসারিত করে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন আলো ফেলতে সক্ষম। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আলাদা করেছে।

তাঁর পরিবার এবং কাছের মানুষজন প্রথমে ভাবতেন যে এত ডিগ্রির কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিকোলসনের অধ্যবসায় দেখে পরে সবাই মেনে নেন যে এটি তাঁর নেশা এবং জীবনের পথ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা থাকলে তা বয়স বা জীবনের সীমাবদ্ধতার গণ্ডি মানে না। তিনি ষাটোর্ধ্ব বয়সেও নতুন ডিগ্রির সন্ধান করেছেন, যা অন্যদের বিস্মিত করেছে।

নিকোলসনের যাত্রা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিও এক বড় বার্তা দেয়। আজকের দিনে যেখানে অনেক শিক্ষার্থী শুধুমাত্র পরীক্ষার নম্বর বা চাকরির নিশ্চয়তার জন্য পড়াশোনা করে, সেখানে নিকোলসনের গল্প মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত শিক্ষা হলো শেখার প্রতি ভালোবাসা। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো তাঁর মতো মানুষকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যাতে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারে যে জ্ঞানের মূল্য অর্থের চেয়ে অনেক বেশি।

তাঁর জীবন নিয়ে বহু সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি সাক্ষাৎকারে একাধিকবার বলেছেন যে, প্রতিটি ডিগ্রি অর্জনের সময় তিনি যেন এক নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করতেন। নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষক, নতুন বই, নতুন ভাবনা—সবই তাঁকে অনুপ্রাণিত করত। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে একের পর এক নতুন কোর্সে নাম লেখাতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিকোলসন কোনো এক বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। অনেকেই মনে করেন, একজন মানুষ হয়তো বিজ্ঞান বা সাহিত্য বা ব্যবসায়িক শিক্ষায় দক্ষ হতে পারে। কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন যে একজন মানুষ চাইলে একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমান উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। তাঁর এই বিস্তৃত জ্ঞান তাঁকে সত্যিই বিরল এক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *