ভ্লাদিমির পুতিনকে কেন গোটা বিশ্ব ভয় পায়—এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাঁর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বের ধরণ, এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার দিকগুলো বিশ্লেষণ করতে হয়। এইয় প্রতিবেদনে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল—
শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গুপ্তচর মানসিকতা
পুতিন একজন সাবেক কেজিবি অফিসার। গুপ্তচর সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক তীক্ষ্ণ, ধূর্ত ও হিসেবি মানসিকতা দিয়েছে যা তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রয়োগ করেন। তিনি প্রতিপক্ষকে কখন আঘাত করতে হবে, কখন পিছু হটতে হবে—এই কৌশলগুলো খুব ভাল জানেন। এই অদ্ভুত কৌশলী মানসিকতাই বিশ্বের বহু নেতাকে তাঁকে নিয়ে সতর্ক করে রেখেছে।
পরাশক্তির নেতৃত্বে দৃঢ় অবস্থান
রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। বিশাল সেনাবাহিনী, আধুনিক যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, মিসাইল—সব মিলিয়ে রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এই বিপুল শক্তির উপরে পুতিনের পূর্ণ দখল রয়েছে। তাঁর নির্দেশেই সেনা অভিযান, আক্রমণ বা প্রতিরোধ ঘটে। তাই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে বড় বড় দেশও শঙ্কিত থাকে।
অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা
পুতিনের একটি বৈশিষ্ট্য হল তিনি কখন কী করবেন, তা আগেভাগে কেউ বুঝতে পারে না। হঠাৎ ইউক্রেনে সেনা পাঠানো, হঠাৎ কোনও দেশের সাথে জোট বাঁধা, হঠাৎ কোনও বড় ঘোষণা—এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আরও রহস্যময় ও ভীতিকর করে তুলেছে।
নিজের দেশের ভেতরে কড়া নিয়ন্ত্রণ
রাশিয়ার ভেতরে পুতিন বিরোধী কণ্ঠস্বরকে খুব বেশি জায়গা দেন না। রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, এবং কঠোর শাসনব্যবস্থা—এসব কারণে তিনি একজন শক্ত হাতে দেশ চালানো নেতা হিসেবে পরিচিত। এমন নেতাকে আন্তর্জাতিক মহলেও সহজে কেউ চ্যালেঞ্জ করে না।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দম্ভ ও দৃঢ়তা
পুতিন কখনোই পশ্চিমা শক্তির কাছে মাথা নত করেন না। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটোর চোখ রাঙানি তিনি বহুবার অগ্রাহ্য করেছেন। তাঁর ভাষণ, তাঁর কূটনীতি এবং তাঁর সামরিক পদক্ষেপ—সবই এই বার্তা দেয় যে রাশিয়া তার স্বার্থ রক্ষার জন্য যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।
পারমাণবিক হুমকির ছায়া
রাশিয়ার হাতে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, আর এই অস্ত্র ব্যবহার করার ব্যাপারে পুতিনের ভাষণগুলো মাঝে মাঝেই কঠোর ও ইঙ্গিতপূর্ণ হয়। এই এক কারণেই অনেক দেশ তাঁকে ক্ষেপাতে চায় না, কারণ ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ।
পুতিনকে ঘিরে এক ধরনের ভয় ও সম্মানের মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তিনি যেমন নিজের দেশের স্বার্থে আপসহীন, তেমনই তাঁর অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ, বিশাল সামরিক শক্তি এবং কড়া রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তাঁকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক ভীতিকর ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। যে কারণে গোটা বিশ্ব আজও পুতিনকে হেলাফেলা করতে পারে না এবং অনেক সময় তাঁকে ভয়ও পায়।