কুমার শানু ও তাঁর প্রথম স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্যের দাম্পত্য জীবন একসময় বলিউডের আড়ালে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। রিতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল দীর্ঘদিন আগে, এবং তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় তিন সন্তান—জিকো, জায়সি ও জান। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই সেই সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরতে শুরু করে। ১৯৯৩ সালে রিতা তাঁর স্বামীর ব্যক্তিগত জীবনে অন্য নারীর উপস্থিতির খবর পান। এই সংবাদ প্রকাশ্যে না এলেও তাঁর মনে গভীর আঘাত হানে।
কুমার শানুর তার স্ত্রীর সঙ্গে কেন সংসার করতে পারেননি?
১৯৯৪ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী সন্তানদের হেফাজত রিতার কাছেই থাকে এবং কুমার শানুকে নির্দিষ্ট মাসিক ভরণপোষণ দিতে হয়। এ সময় কুমার শানুর জীবন নানা উত্থান–পতনে ভরে ওঠে। পেশাগতভাবে তিনি তখনও শীর্ষে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক চাপ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছিল। এই কঠিন সময়েই তাঁর জীবনে আসেন অভিনেত্রী কুনিক্কা সদানন্দ। কুনিক্কার দাবি অনুযায়ী, শানু তখন ভীষণভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, এমনকি হতাশায় আত্মহননের কথাও বলেছিলেন।
অন্যদিকে, বিচ্ছেদের পর রিতার ক্ষোভও সময়ে সময়ে প্রকাশ পেয়েছিল। কুনিক্কার অভিযোগ, শানু সন্তানদের জন্য যথাসময়ে অর্থ পাঠাতে দেরি করলে রিতা রাগে তাঁর গাড়ি হকি স্টিক দিয়ে ভেঙে দেন এবং প্রায়ই বাড়ির সামনে গিয়ে চিৎকার করতেন। এই ঘটনাগুলো কুমার শানুর ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, কুমার শানুর প্রথম সংসারের ভাঙন মূলত পারিবারিক বিশ্বাসভঙ্গ ও একাধিক সম্পর্কের কারণে ঘটে। বিচ্ছেদের পরও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। আজও এই অধ্যায় তাঁর জীবনের একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
কুমার শানু তখন বলিউডে তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালি সময় পার করছিলেন। একের পর এক সুপারহিট গান তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা ধীরে ধীরে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছিল। বহু সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, সেই সময় তিনি কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছিলেন না। এতে দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব আরও বেড়ে যায় এবং ভুল বোঝাবুঝি গভীর হয়।
বিচ্ছেদের পর রিতা একা হাতে তিন সন্তানকে বড় করেন। সন্তানদের শিক্ষা ও লালনপালনে তিনি কোনও আপস করেননি। এদিকে কুমার শানুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল শুধুমাত্র সন্তানদের আর্থিক ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় খবরাখবর নেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। পরিবারের ভেতরের তিক্ততা তাঁদের সম্পর্ককে একেবারেই বন্ধ করে দেয়। রিতা প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য না করলেও কাছের মানুষদের কাছে এই বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করতেন।
কুনিক্কা সদানন্দের সঙ্গে শানুর সম্পর্কও কম বিতর্কিত ছিল না। অনেকের মতে, কুনিক্কা সেই সময় শানুর একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি শানুকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছিলেন এবং জীবনের সবচেয়ে অস্থির সময়ে পাশে থেকেছিলেন। যদিও এই সম্পর্ক কখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি, বলিউড মহলে তা নিয়ে নানারকম গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
রিতা ও কুনিক্কার মধ্যে তীব্র বিরোধও প্রকাশ্যে আসে। শানুর জীবনে কুনিক্কার উপস্থিতি রিতার জন্য ছিল অসহনীয়। সন্তানদের ভরণপোষণ নিয়ে ঝামেলা, আর্থিক লেনদেনে অসন্তোষ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ—সবকিছু মিলে একাধিক সংঘর্ষের জন্ম দেয়। সেই সময় বলিউড পাড়ায় শানুর ব্যক্তিগত জীবন ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।
পরবর্তীকালে কুমার শানু নতুন করে সংসার শুরু করেন এবং অতীত নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি। তিনি বলেছিলেন, জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও রিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আর স্বাভাবিক হয়নি, তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছেন। তবুও, নব্বইয়ের দশকে ঘটে যাওয়া এই অধ্যায় তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়ে গেছে।