নরেন্দ্র মোদীর পরিবারে কে কে আছেন?

Spread the love

নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময়ই প্রবল কৌতূহল থাকে। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন যতটা আলোচনায় থাকে, তাঁর পারিবারিক জীবনও ততটাই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে তিনি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে প্রায় নীরব থাকেন এবং সবসময় জনসেবাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবারের বিভিন্ন দিক জানা গেছে।

নরেন্দ্র মোদীর জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভদনগরে। তাঁর পিতা ছিলেন দামোদারদাস মূলচন্দ মোদী এবং মা হীরাবেন মোদী। হীরাবেন ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ৯৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন। মোদীর জীবনে তাঁর মা সবসময় একটি প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন। ছোটবেলায় আর্থিক কষ্টের মধ্যেও শিক্ষা এবং নৈতিকতার পাঠ তাঁকে শেখান। বাবার মৃত্যু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। ফলে পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই ছোটবেলা থেকেই ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

নরেন্দ্র মোদীর অজানা পরিবার!

মোদীর মোট পাঁচ ভাইবোন আছেন। তাদের মধ্যে বড় ভাই সোমাভাই পেশায় ছিলেন হেলথ অফিসার। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি আহমেদাবাদে একটি বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা করছেন। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন এবং রাজনৈতিক আড়ম্বর থেকে দূরে থাকেন। দ্বিতীয় ভাই অমৃতভাই বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন, বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তিনিই মোদীর সবচেয়ে অন্তর্মুখী ভাই হিসেবে পরিচিত। মিডিয়ার সামনে তাঁকে খুব কমই দেখা যায়।

প্রহ্লাদভাই মোদী মূলত একটি ফেয়ার-প্রাইস দোকান চালান। তিনি গুজরাট ফেয়ার-প্রাইস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে তিনি ন্যায্যমূল্যের দোকানের মালিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামেন। তিনি যদিও ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন, তবুও মোদীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট। অন্যদিকে পাঙ্কজ মোদী গুজরাট সরকারের ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ছিলেন। তিনি সবসময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং প্রায়শই জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে জড়িত থাকেন।

মোদীর একমাত্র বোন হলেন ভাসন্তিবেন। তিনি বিবাহিত এবং সংসার ও পারিবারিক জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। মোদীর ভাইবোনরা সকলেই চেষ্টা করেছেন সাধারণ জীবনযাপন বজায় রাখতে। তাঁরা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক রাখলেও রাজনৈতিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত দেখা হয় না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা কখনও মোদীর অবস্থানকে ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা নেননি।

মোদীর বৈবাহিক জীবন নিয়েও মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অল্প বয়সে তাঁর বিয়ে হয়েছিল জশোদাবেন নামে এক শিক্ষিকার সঙ্গে। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাঁরা একসঙ্গে থাকেন না এবং বহু বছর ধরে আলাদা জীবন কাটাচ্ছেন। জশোদাবেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা এবং গুজরাটে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে থাকেন। তিনি সর্বদা সরল জীবনযাপন করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে খুব বেশি দেখা দেন না। যদিও আইনের চোখে নরেন্দ্র মোদী ও জশোদাবেন আজও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যুক্ত আছেন।

নরেন্দ্র মোদীর পরিবার এখন মূলত ভাইবোন ও তাঁদের সন্তানদের নিয়েই গঠিত। মা হীরাবেনের মৃত্যুর পর পারিবারিক বন্ধন আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে। মোদী তাঁর প্রতিটি জন্মদিনে মায়ের কাছে যেতেন এবং আশীর্বাদ নিতেন। সেই চিত্র ভারতের কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জীবনে এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে তাঁর দেওয়া মূল্যবোধই তাঁকে শক্তি জোগাবে।

আজ মোদীর পরিবার বিভিন্ন পেশায় যুক্ত এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ জীবনে সাধারণ মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তাঁরা আলোচনায় আসতে চান না। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যরা প্রমাণ করেছেন, তাঁরা আলাদা পরিচয় তৈরি করে বাঁচতে চান। তাঁদের এই সরল জীবনযাপন মানুষকে মুগ্ধ করে এবং বুঝিয়ে দেয়, নরেন্দ্র মোদীর শেকড় এখনো মাটির কাছেই গাঁথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *