মন্দারমনির সমুদ্রসৈকতে বিকিনি লুকে ৪৫ বছরে পা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

Spread the love

মন্দারমনি/কলকাতা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় Swastika Mukherjee bikini birthday নিয়ে চলছে প্রশংসা ও সমালোচনার পাল্টা পর্ব।৪৫ বছরে পা দিলেন টলিপাড়ার পরিচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। জন্মদিন উপলক্ষে মন্দারমনির সমুদ্রসৈকত থেকে বিকিনি পরা ছবি পোস্ট করে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তিনি। ছবি প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে প্রশংসা ও সমালোচনার পাল্টাপাল্টি পর্ব। বয়স, নারী শরীর ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের মূল সুর।

শনিবার সকালে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবি ও একটি ছোট ভিডিও পোস্ট করেন স্বস্তিকা। ছবিতে দেখা যায়, হলুদ-সাদা চেক বিকিনি পরে সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। খোলা চুল, চোখে রোদচশমা এবং স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। কোনও আড়ম্বর বা অতিরিক্ত সাজসজ্জা নেই—বরং প্রকৃতির মাঝেই নিজেকে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।


ছবির থেকেও বেশি আলোচনায় ক্যাপশন

ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনই মূলত আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সেখানে স্বস্তিকা নিজের শরীর ও বয়স নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মাতৃত্ব, কাজ, সংগ্রাম, আনন্দ এবং প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা।

ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, এই শরীর সন্তান ধারণ করেছে, কাজ করেছে, সমাজের নানা চাপের মুখে দাঁড়িয়ে থেকেছে। যখন সমাজ মহিলাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলে, তখনও এই শরীর নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। তাঁর কথায়, বয়স বাড়ানো কোনও সমস্যা নয়—সমস্যা সেই সামাজিক সংস্কৃতিতে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের ভয় দেখিয়ে নিজেদের সীমা নির্ধারণ করতে বাধ্য করে।

এই বক্তব্য অনেকের কাছে বডি পজিটিভিটির স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। আবার কেউ কেউ একে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক উসকে দেওয়া বলেও মনে করছেন।


নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: দুই মেরুতে বিভক্ত মত

স্বস্তিকার পোস্ট প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজার হাজার লাইক ও মন্তব্য জমা পড়ে। অনুরাগীদের একাংশ অভিনেত্রীর সাহসী অবস্থানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বয়স বা সামাজিক বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে নিজের শরীরকে গ্রহণ করার এই বার্তা বহু মহিলাকে অনুপ্রাণিত করবে।

একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “৪৫ বছরেও এই আত্মবিশ্বাসই আসল সৌন্দর্য।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “সমাজ যা বলবে, তার তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে বাঁচাই আসল।”

তবে অন্য মেরুতে রয়েছে সমালোচনাও। কিছু নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, একজন পরিচিত অভিনেত্রীর এমন বিকিনি ছবি পোস্ট করা আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়। কারও মতে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক রুচির বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। যদিও এই ধরনের মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি স্বস্তিকা।


মন্দারমনিতে জন্মদিন কাটানোর সিদ্ধান্ত

জানা গিয়েছে, জন্মদিন উপলক্ষে কয়েকদিনের ছুটিতে মন্দারমনিতে গিয়েছিলেন স্বস্তিকা। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় এই সমুদ্রসৈকত দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্য। শান্ত পরিবেশ, খোলা সমুদ্র আর শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকার সুযোগ—সব মিলিয়েই জন্মদিন কাটানোর জন্য এই জায়গা বেছে নেন অভিনেত্রী।

মন্দারমনিতে তাঁর উপস্থিতি নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রসৈকতের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে এবারের পোস্টটি বয়স ও শরীর নিয়ে মন্তব্যের জন্য আলাদা করে নজর কেড়েছে।


বরাবরই স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি বরাবরই নিজের মত প্রকাশে অকুণ্ঠ। নারী স্বাধীনতা, সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক মতামত—এই সব বিষয়েই তাঁকে খোলাখুলি কথা বলতে দেখা গিয়েছে।

এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, বয়স বা সমাজের চাপের কাছে মাথা নত করা তাঁর স্বভাব নয়। টলিপাড়ার অন্দরেও তাঁর এই স্পষ্টভাষিতা নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ এটিকে সাহস বলে মনে করেন, কেউ আবার বিতর্কপ্রবণতা হিসেবে দেখেন।


মন্দারমনির সমুদ্রসৈকতে ৪৫তম জন্মদিনে বিকিনি লুকে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়

অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলা

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বাংলা ও হিন্দি—দু’ভাষাতেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। টেলিভিশন ধারাবাহিক দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।

একদিকে বাণিজ্যিক ছবি, অন্যদিকে বিকল্প ধারার কাজ—দু’দিকেই সমান স্বচ্ছন্দ স্বস্তিকা। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের নানা বিষয় নিয়ে তাঁর অবস্থান বারবার সামনে এসেছে।


বয়স, নারী শরীর ও সমাজ: নতুন করে প্রশ্ন

স্বস্তিকার এই জন্মদিনের পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এনেছে বয়স ও নারী শরীর নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে। ভারতীয় সমাজে এখনও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের আচরণ, পোশাক এবং উপস্থিতি নিয়ে একাধিক অদৃশ্য নিয়ম কার্যকর থাকে—এমনটাই মনে করছেন সমাজবিশ্লেষকদের একাংশ।

অনেকের মতে, এই ধরনের পোস্ট সেই পুরনো ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই বিতর্কই প্রমাণ করে সমাজ এখনও এই বিষয়গুলি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা

এই ঘটনার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাও নতুন করে সামনে এসেছে। একদিকে এটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশের মঞ্চ, অন্যদিকে এখানেই তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। স্বস্তিকার পোস্টও তার ব্যতিক্রম নয়।

একটি জন্মদিনের ছবি কীভাবে সামাজিক আলোচনার রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাই তার উদাহরণ। ব্যক্তি স্বাধীনতা বনাম সামাজিক রুচি—এই দুইয়ের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মন্তব্যের পর মন্তব্যে।


নেটদুনিয়ায় আলোচনার রেশ এখনও তাজা

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের পোস্ট ঘিরে আলোচনা এখনও থামেনি। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে চলছে সমর্থন ও সমালোচনার পাল্টা যুক্তি। কেউ একে আত্মবিশ্বাসের উদযাপন বলছেন, কেউ আবার সামাজিক সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তবে এটুকু নিশ্চিত, মন্দারমনির সমুদ্রসৈকত থেকে শেয়ার করা এই ছবিগুলি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মুহূর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বয়স, শরীর এবং নারী স্বাধীনতা নিয়ে সমাজের চিরাচরিত ধারণাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে এই পোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *