আইপিএল ২০২৬ নিলামের আগে রাজস্থান রয়্যালসের দল নিয়ে অনেক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কোন কোন খেলোয়াড়কে তারা ছেড়ে দিতে পারে, সেই তালিকায় উঠে এসেছে চারটি নাম। টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে পারফরম্যান্স ও বাজেটের হিসাব কষে ক্রিকেট মহলে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইপিএল ২০২৬ নিলামের আগে চার তারকাকে ছেড়ে দেওয়ার জোর জল্পনা, নতুন পরিকল্পনায় দল গঠনের ছক কষছে রাজস্থান রয়্যালস!
প্রথম নাম ধ্রুব জুরেলের। তাঁকে আইপিএল ২০২৫ মরশুমের আগে ১৪ কোটি টাকায় দলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই দামে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। পুরো মরশুমে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ ম্যাচে ৩৩৩ রান, যা অবশ্যই খারাপ নয়, কিন্তু বড় চুক্তির তুলনায় যথেষ্ট নয়। স্ট্রাইক রেট ১৫৬ হলেও ম্যাচ ফিনিশারের ভূমিকায় তিনি ধারাবাহিক নন। তাই অনেকের মত, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে রাজস্থান নিলামে কম দামে তাঁকে ফেরাতে চাইতে পারে।
দ্বিতীয় নাম শিমরন হেটমায়ারের। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটারকে ১১ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। কিন্তু পুরো মরশুমে তাঁর রান মাত্র ২৩৯, গড় ২১ এর কাছাকাছি এবং স্ট্রাইক রেটও ছিল প্রায় ১৪৫। একাধিক ম্যাচে যখন দলের জয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেওয়া দরকার ছিল, তখন হেটমায়ার ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তৃতীয় নাম তুষার দেশপান্ডের। তাঁকে গতবার ৬.৫ কোটি টাকায় দলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ১০ ম্যাচে মাত্র ৯ উইকেট নিতে পেরেছেন এবং প্রতি ওভারে দিয়েছেন প্রায় ১১ রান। পাওয়ারপ্লেতে এবং ডেথ ওভারে তাঁর বোলিং নিয়ে টিমের ভরসা কমেছে। তাই তাঁকেও ছেড়ে দিয়ে রাজস্থান হয়তো অন্য কোনও ভারতীয় পেসারের দিকে নজর দেবে।
চতুর্থ নাম কুয়েনা মাফাখার। দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ পেসারকে ১.৫ কোটি টাকায় দলে নেওয়া হলেও তিনি মাত্র দুটো ম্যাচ খেলেছেন এবং পেয়েছেন এক উইকেট। তাঁর মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান পারফরম্যান্সে তাকে ধরে রাখা খুব একটা লাভজনক মনে হচ্ছে না। এই কারণেই তাঁকে মুক্ত করে দিয়ে সেই টাকা দিয়ে অন্য কাউকে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে দল।
এই চারজনকে ছেড়ে দিলে রাজস্থান রয়্যালসের পকেটে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ফিরে আসবে। সেই অর্থ দিয়ে তারা নতুন ভারতীয় এবং বিদেশি তারকাদের দলে টানার সুযোগ পাবে। আগামী নিলামের আগে তাই দল গঠনের এই জল্পনা নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
রাজস্থান রয়্যালস সবসময়ই একটি ব্যতিক্রমী দল হিসেবে পরিচিত। তাদের নীতি হল তরুণদের নিয়ে কাজ করা এবং বড় তারকাদের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করা। তবে প্রতিটি মরশুম শেষে পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী দল থেকে কিছু খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন প্রতিভা উঠে আসে এবং দল আরও শক্তিশালী হয়। তাই ধ্রুব জুরেল, হেটমায়ার, তুষার দেশপান্ডে কিংবা মাফাখাকে ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা যতই হোক না কেন, এর মূল লক্ষ্য আসলে দলকে আরও সুষম করে তোলা।
দলের ব্যাটিং লাইনআপে বর্তমানে যশস্বী জয়সওয়াল, সঞ্জু স্যামসন ও রিয়ান পরাগের মতো ধারাবাহিক পারফর্মার রয়েছেন। তাই মিডল অর্ডারে হেটমায়ার বা জুরেলের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। ভবিষ্যতে তারা এমন কিছু খেলোয়াড়কে নিতে চাইবে যারা শুধু বড় শট খেলতে সক্ষম নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ টেনে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে চেজের সময় অভিজ্ঞ ও ফিনিশিং মাইন্ডসেটের কাউকে আনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
বোলিং বিভাগে ট্রেন্ট বোল্ট ও ইউজভেন্দ্র চাহালের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে মিলিয়ে যদি একজন ধারাবাহিক ভারতীয় পেসার যোগ করা যায়, তাহলে দল আরও ভারসাম্য পাবে। তুষার দেশপান্ডের জায়গায় কেউ যেমন অভিজ্ঞ মোহিত শর্মা বা নতুন প্রজন্মের আকাশ মধওয়াল আসতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। এই পরিবর্তনগুলি হলে রাজস্থানের ডেথ ওভার বোলিং অনেকটাই মজবুত হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত এই সব আলোচনা এখনো অনুমান মাত্র। টিম ম্যানেজমেন্টের আসল পরিকল্পনা কী, সেটা বোঝা যাবে নিলামের ঠিক আগে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এই চার খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখনই শুরু হয়ে গেছে। আইপিএল সবসময়ই চমকে ভরা, তাই হয়তো এদের কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত থেকে যাবেন আবার কেউ বা অন্য দলে নতুন যাত্রা শুরু করবেন। যাই হোক না কেন, আইপিএল ২০২৬ এর আগে রাজস্থান রয়্যালসের দল গঠনের এই খবরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।