৪৫ বছরে একবারও দেখা হয়নি—ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে কেন দূরেই রেখেছিলেন হেমা মালিনী

Spread the love

বলিউডের জনপ্রিয় জুটি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীকে ঘিরে জনমানসে বহু গল্পই প্রচলিত। তাঁদের সম্পর্ক, বিবাহ এবং পৃথক সংসারের কাঠামো বিগত কয়েক দশক ধরে দেশের বিনোদন-সংবাদে আলোচনার বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন বহুদিন ধরেই কৌতূহল জাগায়—বিবাহের পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও কেন কখনও ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি হেমা মালিনী?

সম্প্রতি পুরনো সাক্ষাৎকার ও জীবনীতে উঠে আসা তথ্য আবারও সংবাদমাধ্যমে ফিরে এসেছে, যেখানে হেমা মালিনী নিজেই এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দূরত্ব ছিল সম্পূর্ণ সচেতন এবং পরিবারিক শান্তির কথা ভেবেই নেওয়া।

১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর বিবাহ বলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল। কারণ তখন ধর্মেন্দ্র প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও চার সন্তান—সানি, ববি, বিজেতা এবং অজিতার সঙ্গে পূর্ণ সংসার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বিবাহ হওয়ায় দুই পক্ষের পরিবার এবং সমাজমণ্ডলী—সবাইয়ের দৃষ্টি ছিল এই সম্পর্কের দিকে। কিন্তু বাস্তবে কোনো বড় সংঘাত বা প্রকাশ্য বিরোধ সামনে আসেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল হেমা মালিনীর নিজের সিদ্ধান্ত—প্রথম সংসারের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা।

তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি কখনও এমন কিছু করতে চাননি, যা প্রথম পরিবারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। জীবনীতে তিনি লেখেন, “আমি কারও ঘর কিংবা মনকে বিরক্ত করতে চাইনি। তাই বিবাহের পর আমি প্রথম সংসারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখিনি। এতে কারও অস্বস্তি সৃষ্টি না হওয়াই ছিল আমার উদ্দেশ্য।” হেমা মালিনী আরও জানান, প্রকাশ কৌরের প্রতি তাঁর গভীর সম্মান রয়েছে এবং সেই সম্মান থেকেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছিলেন।

ধর্মেন্দ্র ও হেমার দুই সন্তান—ঈশা ও আহানা—নিজেদের বাড়িতে বেড়ে ওঠেন আলাদা পরিবেশে। ধর্মেন্দ্র নিয়মিত তাঁদের দায়িত্ব পালন করলেও হেমা কখনও নিজের উপস্থিতিকে প্রথম সংসারের ওপর চাপিয়ে দেননি। ফলে দীর্ঘ চার দশক ধরে দুই পরিবার আলাদা থেকেও পরস্পরের প্রতি ন্যূনতম সৌজন্য বজায় রেখেছে।

এই পুরো পরিস্থিতিতে প্রকাশ কৌরের সংযত অবস্থানও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বহু বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র হয়তো আদর্শ স্বামী ছিলেন না, কিন্তু তিনি সবসময়ই দায়িত্ববান বাবা ছিলেন। এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, দুই পরিবারের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো বিরোধ দেখা না গেলেও প্রত্যেকেই নিজেদের সীমা ও মর্যাদা বজায় রেখেছিলেন।

বলিউডের মতো এক উজ্জ্বল, আলো-ঝলমলে জগতেও কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সংবেদনশীলভাবে সামলানো যায়, হেমা মালিনীর সিদ্ধান্ত তারই উদাহরণ। প্রচলিত ধারা অনুযায়ী একই পরিবারে জটিল সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি সেটিকে যথেষ্ট মর্যাদা ও সংযমের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। নিজের জীবন, কাজ এবং দুই কন্যাকে কেন্দ্র করেই তিনি পথ চলেছেন, আর ধর্মেন্দ্র দুই সংসারের মধ্যে দায়িত্ব সামলেছেন নিজের মতো করে।

এই অনন্য পারিবারিক অবস্থান সমাজের জন্যও এক ধরনের ভাবনার জায়গা তৈরি করে—সব সম্পর্ক এক ছাঁচে তৈরি হয় না এবং সব সিদ্ধান্তই প্রকাশ্য ব্যাখ্যার জন্য নয়। তবে হেমা মালিনীর এই মন্তব্য—“আমি কাউকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি”—এই গল্পের সুরটিকে অনেকটাই স্পষ্ট করে দেয়।

আজ এত বছর পরে যখন পুরনো একটি মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, তখন বোঝা যায়, কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তখন, যখন সেই সিদ্ধান্তের ভিত তৈরি হয় পারিবারিক সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার ওপর।


You Can Also Check

আরও বিনোদন সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী গল্প পড়তে ভিজিট করুন: newsprimetimes.com

Sources & References

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *