ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম অগ্নি-৫। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM), যার পাল্লা প্রায় ৫০০০ থেকে ৮০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং প্রায় গোটা এশিয়া, ইউরোপের বড় অংশ এবং এমনকি আফ্রিকারও কিছু অংশকে আঘাত করতে পারে।
ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছে। শুধু জনবল বা কৌশলগত দিক থেকে নয়, উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রও ভারতের কাছে রয়েছে, যা প্রয়োজনে গোটা বিশ্বকে আতঙ্কিত করে তুলতে পারে। ভারতের এই অস্ত্রভাণ্ডার শুধু প্রতিবেশী শত্রু রাষ্ট্রগুলিকেই নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিদেরও হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে সক্ষম। নিচে এমন পাঁচটি শক্তিশালী অস্ত্রের নাম তুলে ধরা হলো, যেগুলি ভারতের সামরিক শক্তির মূল ভরকেন্দ্র।
১. অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম অগ্নি-৫। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM), যার পাল্লা প্রায় ৫০০০ থেকে ৮০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং প্রায় গোটা এশিয়া, ইউরোপের বড় অংশ এবং এমনকি আফ্রিকারও কিছু অংশকে আঘাত করতে পারে। অগ্নি-৫ এর উপস্থিতি ভারতের কৌশলগত শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
২. ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল
ব্রহ্মোস হলো ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এর গতি শব্দের তিন গুণেরও বেশি (ম্যাক ৩)। এটি সমুদ্র, স্থল এবং আকাশ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে। এর পাল্লা এখন ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি, যা ভবিষ্যতে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ব্রহ্মোস ভারতের ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা নেওয়ার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
৩. আকাশ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা
ভারতের আকাশ মিসাইল সিস্টেম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এক অত্যাধুনিক এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম। এটি একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করতে পারে। এর পাল্লা ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং এটি দ্রুত মোতায়েন করা যায়। পাকিস্তান ও চীনের বিমান বাহিনীকে ঠেকাতে আকাশ সিস্টেম ভারতের জন্য এক বড় ভরসা।
৪. এরিহান্ট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন
ভারতের অন্যতম গর্ব হলো INS Arihant, যা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। এটি সমুদ্রের গভীরে বছরের পর বছর টহল দিতে সক্ষম এবং এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতা। এই সাবমেরিন ভারতের “nuclear triad” সম্পূর্ণ করেছে—অর্থাৎ, ভারত এখন আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে পারমাণবিক আঘাত হানতে সক্ষম। এরিহান্ট ভারতকে দিয়েছে এক অসাধারণ দ্বিতীয় আঘাতের ক্ষমতা, যা শত্রুর কাছে এক দুঃস্বপ্নের মতো।
৫. সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান
ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান শক্তি হলো সু-৩০ এমকেআই ফাইটার জেট। এটি রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি হলেও ভারতের জন্য বিশেষভাবে কাস্টমাইজড। সু-৩০ এমকেআই আধুনিক এভিওনিক্স, দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল এবং এয়ার-টু-এয়ার ও এয়ার-টু-গ্রাউন্ড আক্রমণে পারদর্শী। এর সঙ্গে ব্রহ্মোস মিসাইল যুক্ত হলে এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর অস্ত্রে পরিণত হয়।
ভারতের এই অস্ত্রসম্ভার শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের কাছে এক বড় বার্তা—ভারত আজ কেবল আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির অন্যতম বড় কেন্দ্র। শত্রুরা তাই ভারতের সামরিক শক্তি সম্বন্ধে দুইবার না ভেবে কোনো পদক্ষেপ নিতে সাহস পায় না।