প্রথমে মানুষ এসবকে নিছক গুজব ভেবেছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই এক অদ্ভুত ঘটনা পুরো পরিস্থিতিকে বদলে দেয়।
Begunkodor Railway Station: রহস্য, ভয় ও বাস্তবতার মিশ্র গল্প
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকসংস্কৃতির জন্যই নয়, রহস্যময় ঘটনাগুলোর জন্যও বিখ্যাত। এই জেলার বুকে আছে এমন এক জায়গা, যা বছরের পর বছর ধরে ভয়, কুসংস্কার ও রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে — বেগুনকোদর রেলস্টেশন (Begunkodor Railway Station)।
আজও অনেকেই মনে করেন এটি ভারতের অন্যতম haunted railway station, যেখানে নাকি এক সাদা শাড়ি পরা মহিলার আত্মা ঘোরাফেরা করে।
স্টেশনের ইতিহাস — কীভাবে শুরু হলো এই গল্প?
বেগুনকোদর রেলস্টেশনটি গড়ে ওঠে ১৯৬০-এর দশকে। শুরুতে এটি ছিল একটি ছোট, তুলনামূলক কম ব্যস্ত স্টেশন। প্রথম কয়েক বছরে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার খবর শোনা যায়নি। কিন্তু এক রাতে স্টেশনের এক কর্মচারী প্ল্যাটফর্মে সাদা শাড়ি পরা এক মহিলাকে দেখতে পান — তিনি কাছে যেতে চাইলে মুহূর্তের মধ্যে সেই মহিলা অদৃশ্য হয়ে যান।
পরদিন সকালে কর্মচারী ঘটনাটি সহকর্মীদের জানান। প্রথমে সবাই হাস্যকর গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিলেও, কয়েক দিনের মধ্যেই অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করে। স্টেশনের মাস্টার এবং তার পরিবারের অস্বাভাবিক মৃত্যু — এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভয়ের বাতাবরণ ঘন হতে থাকে।
৪২ বছরের জন্য ‘ভূতুড়ে’ স্টেশনের অভিশাপ
এই ঘটনাগুলির পর থেকেই Begunkodor station-এ ট্রেন থামানো বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৪২ বছর ধরে এখানে কোনো যাত্রী ট্রেন রাত্রিবেলা থামত না। ট্রেনের চালকরা হুইসেল বাজিয়ে গতি বাড়িয়ে দিতেন, কিন্তু কেউ নামতে সাহস করত না।
প্ল্যাটফর্ম ও চারপাশের ঝোপঝাড়ে আগাছা জন্মায়, আলো নিভে যায়, এবং জায়গাটি হয়ে ওঠে ভুতুড়ে সিনেমার মতো পরিবেশ। ধীরে ধীরে Begunkodor haunted station কথাটি পশ্চিমবঙ্গের লোককথায় জায়গা করে নেয়।
বিজ্ঞানের যুক্তি বনাম কুসংস্কারের বিশ্বাস
২০০৯ সালে ভারতীয় রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে স্টেশনটি পুনরায় চালু হয়। তখন সরকার স্পষ্ট জানায়— “ভূতের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নেই, সবই গুজব।”
তবে ততদিনে মানুষের মনে ভয়ের ছায়া গভীরভাবে বসে গিয়েছিল। অনেকেই রাতের বেলা এখানে নামতে ভয় পান। কিছু রোমাঞ্চপ্রেমী অবশ্য উল্টোভাবে আকৃষ্ট হন এই রহস্যে — তারা রাতে ট্রেনে এসে এখানে নামেন, আশায় যে নিজের চোখে ভূত দেখতে পাবেন।
যদিও বিজ্ঞানীরা বলেন, অনেক সময় বাতাসের শব্দ, আলো-ছায়ার প্রতিফলন বা মানসিক ভয়ই এসব “ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা” তৈরি করে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও লোককথা
স্থানীয়রা বলেন, রাতের বেলা মাঝে মাঝে প্ল্যাটফর্মে সাদা ছায়া দেখা যায়, অজানা পায়ের শব্দ শোনা যায়, কিংবা বাতাসে অদ্ভুত গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকে বলেন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক মহিলার আত্মহত্যার পর থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। আবার অনেক যুক্তিবাদীর দাবি— এটি সম্পূর্ণভাবে কল্পনা ও মানসিক প্রভাবের ফলাফল।
২০০৭ সালে “Paschim Banga Bigyan Mancha” নামের বিজ্ঞানমঞ্চের সদস্যরা এক রাত এখানে থেকে পরীক্ষা চালান। তাঁরা বলেন, “ভূতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবটাই মানুষের মন তৈরি গল্প।”
২০০৯-এর পুনর্জাগরণ — নতুন রঙে পুরনো রহস্য
দীর্ঘ চার দশক বন্ধ থাকার পর Begunkodor railway station reopened in 2009। রেলপথে আবার ট্রেন থামানো শুরু হয়, আলো বসানো হয়, প্ল্যাটফর্ম রঙ করা হয়। স্থানীয়রা আনন্দে মেতে ওঠেন, কিন্তু “ভূতের স্টেশন” ট্যাগটি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।
আজও দিনে কিছু যাত্রী এখানে ওঠানামা করেন, কিন্তু রাত নামলেই নীরবতা ও কৌতূহল একসাথে ঘিরে ধরে জায়গাটিকে।

Begunkodor Today – রোমাঞ্চপ্রেমীদের নতুন গন্তব্য
আজকের দিনে Begunkodor Railway Station একদিকে রহস্যের প্রতীক, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ। Purulia – Ajodhya Hills – Baghmundi অঞ্চলে যারা ভ্রমণে যান, তারা অনেকেই এখানে একবার থামেন— শুধুই দেখতে, কতটা সত্য এই ভয়ের গল্প।
তবে প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ আছে— রাতের বেলা একা এখানে প্রবেশ না করা, এবং স্থানীয়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।
Begunkodor Haunted Story – কল্পনা নাকি বাস্তব?
ভয়ের গল্প কখনো কখনো সমাজের মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন। বেগুনকোদর সেই উদাহরণ—
যেখানে একটি গুজব, কয়েকটি কাকতালীয় ঘটনা আর মানুষের কল্পনা মিলে পুরো একটি রেলস্টেশনকে ৪২ বছর বন্ধ করে রাখে।
যদিও আজকের দিনে বিজ্ঞানের আলোয় দেখা যায়— এই ভয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক। কিন্তু সেই গল্পের প্রভাব আজও এতটাই শক্তিশালী যে, “Begunkodor haunted station” গুগলে খুঁজলে হাজার হাজার ফলাফল পাওয়া যায়।
Begunkodor – এক ইতিহাস, এক শিক্ষা
এই স্টেশন কেবল “ভুতুড়ে” নয়— এটি প্রমাণ করে কিভাবে মানুষের বিশ্বাস, ভয়, কুসংস্কার ও গল্প বলার ক্ষমতা মিলেমিশে একটি স্থানকে আইকনিক করে তুলতে পারে।
আজ বেগুনকোদর হয়ে উঠেছে Purulia-র পর্যটন মানচিত্রের অংশ। যারা ইতিহাস, রহস্য ও রোমাঞ্চের মিশেল খোঁজেন, তাঁদের জন্য এটি এক নিখুঁত গন্তব্য।
তবে, যেভাবে এই গল্পটি একসময় গুজবের কারণে পুরো রেল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল, তা সমাজের জন্য একটি বার্তা— “ভয়ের চেয়ে যুক্তি বড়, কুসংস্কারের চেয়ে সচেতনতা শক্তিশালী।”

আপনি কি Begunkodor ভ্রমণে যাবেন?
যদি আপনি adventure traveller বা mystery lover হন, তাহলে Begunkodor একবার দেখা যেতে পারে। দিনবেলায় গিয়ে গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি দৃশ্য, এবং স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করুন।
রাতের বেলায় ghost tour-এর নামে কোনো ঝুঁকি নেবেন না। মনে রাখবেন— ভূত হয়তো নেই, কিন্তু বাস্তব জীবনের বিপদ সবসময় কাছেই থাকে।
You Can Also Check:
News Prime Times – Latest Bengal Mystery Stories
Sources and References
- The New Indian Express – Myth of West Bengal’s Haunted Begunkodor Railway Station Busted after 50 Years
- Times of India – The Story of a Haunted Railway Station in West Bengal Left Alone for 42 Years
- Wikipedia – Begunkodor Railway Station
- Homegrown – Why Don’t Trains Stop at the Begun Kodor Railway Station in Bengal?
- Aviation A2Z – Begunkodor Railway Station: The Truth Behind Ghost Stories